দেখতে দেখতে ৮ রোজা পার হয়ে গেল। এখনও খুলনার ঈদের বাজার জমে ওঠেনি। বিগত বছরগুলোতে এই সময় টেইলার্সে বেশ ভিড় থাকলে ও এবছরের দৃশ্য ব্যতিক্রম। তৈরি পোশাকের দখলে বাজার চলে যাওয়ার কারণে মার খাচ্ছে টেইলার্সগুলো।
গার্মেন্টসের শার্ট-প্যান্ট যে দামে পাওয়া যায়, ওই একই পোশাক কাপড় কিনে তৈরি করতে গেলে খরচ হয় দ্বিগুণ। এ কারণে ঈদ উপলক্ষে ক্রেতারা সিট কাপড় ও টেইলার্সের দিকে না ঝুঁকে তৈরি পোষাকের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। ফলে খুলনার টেইলার্স মালিকরা খুবই হতাশ হয়ে পড়েছে। অনেক টেইলার্স মালিক ২৫ রমজান পর্যন্ত অর্ডার নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কেউ কেউ ২৯ রোজা পর্যন্ত অর্ডার নেবেন।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিজীবীরা বেতন-বোনাস পেলে মার্কেটে আসবেন। ফলে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ব্যবসা ভালো হবে বলে তাদের ধারণা।
গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনার আখতার চেম্বার, হাজী মালেক চেম্বার, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, রেলওয়ে বিপণি বিতান, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।
আখতার চেম্বার মাকের্টে অবস্থিত স্টুডেন্ট টেইলার্সের ম্যানেজার অশোখ হালদার জানায়, ‘ঈদের অর্ডার শুরু হয়েছে। কিন্তু খরিদ্দারের সংখ্যা খুব কম। তবে মাসের শেষে কিছু অর্ডার বাড়বে। চাকরিজীবীরা মাস শেষে বেতন ও ঈদ বোনাস পাবেন। তখন কাজ ডবল হবে।’
তিনি বলেন, ‘আগের তুলনায় কাজ বেড়েছে। ঈদের এক সপ্তাহ আগে অর্ডার নেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। বিগত দিনগুলোতে ১০-১৫ রমজানের মধ্যে অর্ডার নেওয়া বন্ধ হয়ে যেত। মাসের মধ্যম সময় থেকে রোজা শুরু হওয়ার কারণে কাজ কিছুটা কমে গেছে। তাছাড়া অনেকেই ঝামেলা এড়াতে গার্মেন্টস এর রেডিমেট পোশাকের প্রতি ঝুঁকছে। এ কারণে কাজ অনেকটা কমে গেছে। তবে শার্ট ও প্যান্ট পিসের দাম বেড়েছে। শার্টের মজুরি পাঁচশ’ এবং প্যান্টের মজুরি ছয়শ’ টাকা। গত তিন বছর ধরে একই দাম নির্ধারিত রয়েছে।’
এ্যাবকো ক্লথ স্টোরের মালিক জাভেদ জানান, ‘বেচাকেনা মোটামুটি বেড়েছে। সিট কাপড়ের দাম বেড়েছে কি-না জানতে চাইলে প্রথমে সম্মতি প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে অস্বীকার করেন। তার দোকানে চায়না এবং ইন্ডিয়ান কাপড়ের সরবরাহ বেশি। তবে এ বছর পাকিস্তানি কিছু কাপড় উঠানো হয়েছে। ঈদে পাঞ্জাবির কাপড় বেশ চলছে। কাবলীর জন্য পাকিস্তানি কাপড়ের সাড়া পড়েছে। সব বয়সির ক্রেতা আসছে তার দোকানে।’
বিসমিল্লাহ ক্লথ স্টোরের কর্মচারী সভাষ কুমার রায় বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার কাপড় বিক্রির পরিমাণ একটু বেড়েছে। সবেমাত্র ৮ টি রমজান অতিবাহিত হচ্ছে। ক্রেতারা আসছে কিন্তু তারা দেখে চলে যাচ্ছেন। মাস শেষে বেতন ও বোনাস পেলে তারা এখানে আসবেন এবং কাপড় কিনবেন।’
হাজী মালেক চেম্বারের বস টেইলার্সের ওমর ফারুখ জানান, ‘দীর্ঘদিন ব্যবসায়ে মন্দা ছিল। একটু পরিবর্তন হয়েছে। এখন টুকটাক যে কাজ হচ্ছে তাতে দর্জি শ্রমিকদের মোটামুটি চলছে। কিছু অর্ডার হচ্ছে। রেডিমেট কাপড়ের প্রভাবে কাজ অনেকটা কমে গেছে বলে তিনি জানান।
নাগরিক, অধরা, ফ্যাব্রিক প্লাস, ওয়ের্ষ্টান ইন, সুমন, সাজকো, এ্যাবকো, পির্স ফ্যাব্রিক্স, হলিউড টেইলার্স এন্ড ক্লথ স্টোরের মালিক-কর্মচারীরা বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অর্ডার বাড়বে।
খুলনা গেজেট/এনএম

