একটিও ভোট পাননি মেম্বার প্রার্থী আব্বাস

গে‌জেট ডেস্ক

‘আমার ছেলে, ছেলের বউকেও বলেছি, তোমাদের যাকে ভালো লাগে তাদের ভোট দাও। আর যারা আমার প্রস্তাব ও সমর্থনকারী ছিলেন, তাদেরও বলে দিয়েছি যাদের ভালো লাগে তাদের ভোট দিয়ো। আমি নিজেও নিজেকে ভোট দিইনি। রাগে-দুঃখে নিজের মনের কথা এভাবে বলছিলেন কোনো ভোট না পাওয়া সদস্য প্রার্থী আব্বাস আলী।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের ১ নং কাদিরকোল ওয়ার্ডের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একটিও ভোট পাননি আব্বাস।

সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার মধুসূদন শাহা জানান, ১ নং ওয়ার্ড কাদিরকোল গ্রাম থেকে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে হুমায়ুন কবির ফুটবল প্রতীকে ৬৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর আলম মোরগ প্রতীকে পেয়েছেন ৪১০ ভোট, জালাল উদ্দিন লাটিম প্রতীকে পেয়েছেন ৩ ভোট।

কিন্তু টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আব্বাস আলী একটি ভোটও পাননি। পরে জানা যায় তিনি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতেই আসেননি।

আব্বাস আলী বলেন, আমার নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা ছিল না। তারপরও যেকোনো কারণে নির্বাচনে গিয়ে জনগণের মাঝে ভোট চাইতে গেছি, তখন তারা বলছে, তুমি এবার নির্বাচন কোরো না, তাতেই বুঝতে পারি তারা বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা গ্রামের বৃহৎ একটি মন্ডল গোষ্ঠী, আমার গোষ্ঠীতে যেখানে ২২০টি ভোট আছে, সেখানে কেউ আমার পেছনে ভোট করেনি।

তিনি আরও বলেন, ১ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে একজন, জামায়াতে ইসলামী থেকে একজন ও স্বতন্ত্র থেকে দুজন মেম্বার প্রার্থী ছিলাম। গ্রামের ১০ জন মাতবররা আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রার্থী ক্ষমতাশীল হওয়ায় তার পক্ষে সবাই চলে গেছিল। এদের মধ্যে আমার বড় ভাইও আছেন, যিনি আমাদের পরিচালনা করেন, তিনিও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

গ্রামের সাবেক মেম্বার, সেও জামায়েত ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে চলে যায়। সে আমাকে বলে, আপনার এবার ভোট করার দরকার নেই, আগামীতে ভোট করা যাবে, এই বলে সে আমার পক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু আমার বড় ভাই, তিনি যদি আওয়ামী লীগ সমর্থন প্রার্থীর দিকে না গিয়ে আমার দিকে আসতেন, তাহলে ২২০টি ভোট নিয়ে নির্বাচন করা বা নির্বাচনে জয়লাভ করা সম্ভব হতো। এ কারণে মনের দুঃখে আমি নিজেই নিজের ভোটই দিইনি।

আমার ছেলে, ছেলের বউকে বলেছি, তোমাদের যাকে ভালো লাগে তাদের ভোট দাও। আর যারা আমার প্রস্তাব ও সমর্থনকারী ছিলেন, তাদেরকেও বলে দিয়েছি যাদের ভালো লাগে তাদের ভোট দিয়ো।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মজার বেপার হলো, সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের টিউওবয়েল প্রতীকের সদস্য প্রার্থী তিনি তার নিজের ভোটটি দিতেও ভোটকেন্দ্রে যাননি। এ কারণে তার প্রতীকে ভোট শূন্য।

খুলনা গেজেট/ এস আই




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন