আর মাত্র একদিন পরই ২৭ এপ্রিল যশোরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাকে বরণ করে নিতে যশোরে নানা প্রস্তুতি শেষের পথে। প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফরকে প্রাণবন্ত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ব্যস্ত সময় পার করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সফল করতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তাসহ শেষ সময়ে সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দফায় দফায় সভা চলছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও এসএএফ’র মধ্যে। সভাগুলোতে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে দলীয় প্রস্তুতির অগ্রগতিও বর্ননা করছেন।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী কয়েকটি রুট নির্বাচন করা হয়েছে। সে রুটে চলছে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা। সাজতে শুরু করেছে মূল সভাস্থল যশোর ইদগাহ মাঠ। বিশাল মঞ্চের কাজ এগিয়ে চলেছে। যশোর সার্কিট হাউসসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতেও চলছে রঙচং ও সাজসজ্জার কাজ। সার্কিট হাউসের প্রাচীরে ও ভবনে রঙ করার কাজ চলছে। বর্ণিল লাইট শোভা পাচ্ছে সার্কিট হাউসের প্রাচীরে।
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে এবং তার মুখে আগামীর উন্নয়নের বার্তা শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যশোরবাসী। বিএনপি নেতাদের দাবি সরকার প্রধানের আগমনের ওই দিন যশোর উৎসবের শহরে পরিণত হবে। ইতিমধ্যে শহরে চলছে মাইকিং, করা হয়েছে পোস্টারিং। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আশায় বুক বেঁধেছেন যশোরবাসী। এই সফর যশোরসহ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রায় মান উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা সবার। নানা প্রত্যাশা ও দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিয়ে উন্নয়ন ও দিন বদলের নেতৃত্ব দেবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আশাবাদ এ অঞ্চলের গণমানুষের।
এদিন যশোর মেডিকেল কলেজ ৫শ’ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উলাশী-যদুনাথপুর খাল খনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিন যশোর ইন্সটিটিউট পরিদর্শন ও বিকেলে যশোর ইদগাহ মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। যশোর থেকে শার্শা পর্যন্ত এবং যশোর শহরের পূর্ব ঘোষিত নির্ধারিত কর্মসূচি স্থলে চলছে নানা কর্মযজ্ঞ। কর্মসূচি ও রুট ঘিরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা ইউনিটগুলোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
যশোর শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন সড়ক পরিচ্ছন্ন করতে এবং ফুটপাতের অবৈধ দখল ও রাস্তায় ফেলে রাখা নির্মাণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। শহরকে যানজট মুক্ত রাখতেও ট্রাফিক বিভাগ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী আসার আগের দিন ও জনসভার দিন কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে গোটা যশোর শহর ও শহরতলি। জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, যশোর জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন এমনকি ওয়াড পর্যায়েও প্রতিদিনই প্রস্তুতিসভা করছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। প্রতিদিনই হচ্ছে প্রচার মিছিল। শুক্রবার যশোরে শহরে আনন্দ মিছিল করেছে যুবদল, ছাত্রদল ও ন্বেচ্ছাসেবকদল। এছাড়া, প্রচার প্রচারণার জন্য লিফলেট বিতরণ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে দলীয় নেতৃকর্মীরা। ব্যানার প্লাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিল সহকারে বিশাল বহর নিয়ে সভাস্থলে আসবার প্রস্তুতিও চলছে বিভিন্ন পর্যায় থেকে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার উজ্জল হোসেনের তথ্যানুযায়ী, আগামী ২৭ এপ্রিল বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে শার্শার উলশী খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানস্থলে সুধি সমাবেশে যোগদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। এরপর দুপুর ১ টা ৩৫ মিনিটে যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন। এছাড়া বিকেল ৩ টা ৩০ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচি। যশোরবাসী নানা দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও চান ২৭ এপ্রিল জনসভায়।
যশোরের মানুষের দাবি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’দফা জনসভায় যশোর পৌরসভা সিটি কপোরেশনের ঘোষাণার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তারুণ্যের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিটি কর্পোরেশনের ঘোষণা দেবেন, এমনটি আশা করছেন তারা। একই সাথে ভবদহের জলবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, যশোরে একটি সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিও রয়েছে। যশোরের সুধিজনদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটিও রয়েছে। তাদের দাবি এই সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি প্রতিষ্ঠিত হোক। যশোর বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর করার দাবিও রয়েছে অনেকের।
যশোরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চাই বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ডক্টর মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, যশোরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এখন সময়ের দাবি। যশোরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ২৩ এপ্রিল দুপুরে এ দাবি জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আশা করছি ২৭ এপ্রিল জনসভায় প্রধামন্ত্রী যশোরবাসীকে আশ্বস্ত করে যাবেন। যশোর চৌগাছা সড়ককে ৪ লেন করার দাবি ওই এলাকার মানুষের।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি যশোরে এসেছিলেন। এরপর আগামি ২৭ এপ্রিল যশোরে তার দ্বিতীয় সফর। ২ ফেব্রুয়ারি তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন তার বাবার স্মৃতি বিজড়িত উলাশী খাল তিনি যশোরের মানুষকে সাথে নিয়ে পুনঃখনন করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ২৭ এপ্রিল তার এই সফর। এছাড়া যশোরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল বাস্তবায়নের, তারই রূপ দিতে তিনি আসছেন।
এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। রাস্তার পাশের স্থাপনা সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হয়েছে। মাইকিংয়ের পর স্থাপনা সরানোর কাজও করা হয়েছে। একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিবহন পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যশোর বেনাপোল সড়কের যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশ্রামের জন্য যশোর সার্কিট হাউস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত চৌকস ফোর্সগণ দায়িত্ব পালন করবেন। তার নিরাপত্তায় ৭১টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম জিরো টলারেন্স থাকবে। ইতোমধ্যে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর যশোর আগমনকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল অফিসারদের সাথে সভা হয়েছে। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল সাবু বলেছেন, ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের আগমনকে নিরাপদ, নির্বিঘ্নও সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। সফরকে সুন্দর ও সফল করতে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যশোর শহরে তারেক রহমানের জনসভায় গণমানুষের ঢল নামবে বলে তিনি জানান।
খুলনা গেজেট/এনএম

