ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শপিংমল, স্কুল-কলেজের ভবন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ভবন তৈরির নির্মাণ সামগ্রীর দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ার ফলে নির্মাণ কাজ স্থবির হতে চলেছে। পূর্বে যে রডের দাম ছিল ৭৭ টাকা আজ তার মূল্য ৯৯ টাকা। ৩ দিন পূর্বেও বিক্রি হয়েছে ৯১ টাকায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাধার পরপরই হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে নির্মাণ সামগ্রীর দাম। বালি, ইট, সিমেন্ট, রড, সিলেকশন বালি ইত্যাদি প্রত্যেকটি নির্মাণ সামগ্রীর দাম হু হু করে বাড়ছে।
অভয়নগরের বালি ব্যবসায়ী মিলন এবং ফারুক হোসেন জানান, ৫০০ ফুটের মধ্যমানের এক ট্রাক বালির মূল্য ছিল ১৫-১৬ হাজার টাকা। তা এখন বৃদ্ধি পেয়ে ২০-২১ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। উন্নত মানের বালির দাম আরও অনেক বেশি।
সরেজমিন অভয়নগরের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ৫২০ টাকার আকিজ সিমেন্ট বর্তমানে ৫৬০ থেকে ৫৬৫ টাকা, হোলসিম বস্তা প্রতি ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান মূল্য ৫৮০ থেকে ৫৮৫ টাকা, কিং ব্রান্ড ৫১০ টাকা থেকে বেড়ে ৫২৫ টাকা, স্পেশাল আরো ১০ টাকা বেশি, এলিফ্যান্ট সিমেন্ট ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫২০ টাকা। সাদা বালি গাড়িতে বেড়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা, সিলেকশন বালি বর্তমানে উন্নতমানের বালি নেই বললেই চলে। পঞ্চগড়ের সিলেকশন বালি যার মূল্য প্রতিফুট ৬০ থেকে ৬২ টাকা ছিল বর্তমানে তা ৯৫ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
রড সিমেন্ট বিক্রেতা অভয়নগরের ব্যবসায়ী মেসার্স হক এন্ড কবিরের ম্যানেজার লাভলু এবং মিজান জানান, প্রতিনিয়ত রডের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিএসআরএম, এ কে এস, ইত্যাদি ব্র্যান্ডের রড ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৯৮ থেকে ৯৯ টাকা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাধার পূর্বে এবং বর্তমানে তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় রডের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্রয় বিক্রয় প্রচুর পরিমাণে কমে গেছে। নির্মাণাধীন ঘরবাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
রড কিনতে আসা সিংহাটি এর সুমন গাজী জানান, বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ সুরু করেছিলেন তিনি, কিন্তু নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেকদিন কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় এবং ঝড় বর্ষার পূর্বেই বসতবাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ করতে অবশেষে দেনা ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বাধ্য হয়ে রড কিনতে এসেছেন তিনি।
অনেকে অপেক্ষা করছেন দাম কমার জন্য। অভয়নগরের বর্ণী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও জাফরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কন্টাকটারের কাজ করছেন আব্দুর রাজ্জাক, অভয়নগরের গাজীপুর রউফিয়া আলিম মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের কাজ করছেন কন্ট্রাক্টর খসরু আহমেদ এবং পায়রাহাট ইউনাইটেড কলেজের ভবন নির্মাণের কাজ করছেন কন্ট্রাকটর নুরুল হক।
প্রত্যেক কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যখন তারা কনট্রাক্ট নিয়েছিলেন তখন বাজার মূল্য কম ছিল কিন্তু এখন নির্মাণ সামগ্রীর দাম প্রচুর বেড়ে যাওয়ায় তাদের কাজের সীমাহীন ব্যাঘাত ঘটছে। লাভের স্বপ্ন ছেড়ে দিয়ে বাধ্য হয়েই এসব কাজ তাদের এগিয়ে নিতে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে তারা জানান।
পায়রাহাট ইউনাইটেড কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম ইকবাল জানান, তাদের নির্মাণ কাজ অনেকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কন্ট্রাকটর নুরুল হক জানান, নির্মাণ সামগ্রীর দাম কিছুটা কমের অপেক্ষা করছিলেন কিন্তু তার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না। তাদের প্রচুর ক্ষতি হলেও কিছুদিনের মধ্যে আবারও কাজ শুরু করবেন বলে জানান।
প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, সরকারি কোনো কাজ বন্ধ হয়নি তবে চলছে মন্থর গতিতে।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ সালাউদ্দিন দ্বীপু জানান, এ ব্যাপারে কন্ট্রাকটররাই ভালো জানেন। বাস্তবতা হলো, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের ঘরবাড়ি বসতবাড়ি নির্মাণ করতে বুকে মাটি ঠেকে যাচ্ছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

