বুধবার । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩

অভয়নগরের আঁকাবাঁকা পথে ভাঁটফুলের অপরূপ সৌন্দর্য

গাজী আবুল হোসেন

ফুল ফুটে ঝরে যায় রেখে যায় স্মৃতি। ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত হয় মানুষের হৃদয়। আকৃষ্ট হয় ফুল প্রেমিক, কীটপতঙ্গ আর পাখি কুল। গ্রামবাংলার অতি পরিচিত গুল্মজাতীয় বহুবর্ষজীবী বুনো উদ্ভিদ ভাঁট এখন যশোরের অভয়নগর উপজেলার গ্রামীণ পথে ছড়াচ্ছে অপার সৌন্দর্য। গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠোপথ, রাস্তার ধারে ও আনাচে-কানাচে অযতেœ-অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই শুভ্র ফুল যেন প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলেছে নতুন রূপে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়- চলিশিয়া, সুন্দলী, পায়রা ইউনিয়নের বিলের মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়ক এবং সিদ্ধিপাশার প্রধান সড়কের দু’পাশে ভাঁটফুলের সমারোহ পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে। সাদা ফুলের সারি দেখে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে এঁকেছে অপরূপ এক চিত্রপট। অঞ্চলভেদে এই ফুলটি ভাইটা ফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, বনজুঁই বা ঘণ্টাকর্ণ নামেও পরিচিত। তবে অভয়নগর অঞ্চলে ‘ভাঁট ফুল’ বা ‘ভাঁটি ফুল’ নামেই বেশি পরিচিত। চৈত্র মাসে ফোটে বলে অনেকেই একে ‘চৈতের ফুল’ও বলেন।

বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রকৃতিকে সাজাতে ফুটে ওঠে এই ভাঁটফুল। বিশেষ করে পরিত্যক্ত মাঠ, বন-জঙ্গল, রাস্তার ধারে কিংবা জলাশয়ের পাশে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল ফুটে থাকে। মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়িয়ে ফুলগুলো আকর্ষণ করে মৌমাছিকেও, যারা এর মধু সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে। গাছটি সাধারণত দুই থেকে চার মিটার লম্বা হয়। পাতা পানপাতার মতো আকৃতির এবং কিছুটা খসখসে। ডালের শীর্ষে পুষ্পদ-ে একসঙ্গে অনেক ফুল ফোটে, যার পাপড়িতে সাদা রঙের সঙ্গে বেগুনির আভা মিশে থাকে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দেশজ ফুলটি কিছুটা দুর্লভ হয়ে উঠছে। গ্রামাঞ্চলেও আগের মতো সহজে চোখে পড়ে না।

উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুন হোসেন বলেন, “এক সময় গ্রাম-গঞ্জে সর্বত্র এই ফুল দেখা যেত। এখন আগের মতো দেখা যায় না, তবে সৌন্দর্যে কোনো কমতি নেই।”

উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান বলেন, “ছোটবেলায় এই মৌসুমে অনেক ভাঁটফুল দেখতাম। এখনো দেখা যায়, তবে আগের তুলনায় কম। দেখতে যেমন সুন্দর, ঘ্রাণও তেমন মনোমুগ্ধকর।”




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন