শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

বেনাপোল বন্দরে বোমা বিস্ফোরণের পর পিস্তল-গুলি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

বেনাপোল স্থলবন্দরের শেড ও হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বোমা হামলার প্রতিবাদে শ্রমিকদের ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুরু হয়েছে আমদানি রফতানিসহ বন্দরে পন্য লোড আনলোডিংয়ের কাজ। স্বস্তি ফিরেছে শ্রমিকদের মাঝে। কমতে শুরু করেছে পন্যজট। এদিকে, বোমা হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় ৩৬ জনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত ৮ জনকে আটক করেছে। বন্দর এলাকা থেকে জব্দ করা হয়েছে একটি প্রাইভেটকার, ১টি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ম্যাগজিন ও ৪টি ককটেল বোমা।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন ভুইয়া ও শ্রমিক নেতা অহিদুজ্জামান বলেন, সোমবার সকালে বহিরাগত দুর্বৃত্তরা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বন্দর এলাকায় বোমা হামলা চালায়। তারা মুর্হুমূহু বোমার বিস্ফোরন ঘটিয়ে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বন্দর এলাকায় অর্ধশতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শ্রমিক পথচারিসহ ৮জন আহত হন। তাদেরকে শার্শা ও যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে। পরে মঙ্গলবার সকালে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সমঝোতা বৈঠকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয় ও কাজে যোগদান করে।

এদিকে, বোমা হামলার ঘটনায় ৩৮ জনকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ ৮ জনকে আটক করেছে। বাকি অভিযুক্তদের আটকে অভিযান চলছে বলে থানার ওসি কামাল হোসেন জানান। এছাড়া পুলিশি অভিযানে বন্দর এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি প্রাইভেট কার, একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ১টি ম্যাগজিন ও ৪টি ককটেল বোমা। আটক আসামিদের ওই মামলায় যশোর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, যশোরের স্থলবন্দর বেনাপোলে দু’গ্রুপের বোমা বিস্ফোরণ, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় সাংবাদিক সম্মেলন করেছে পৌর আওয়ামী লীগ। সম্মেলনে বেনাপোলের এক শ্রমিক নেতার নেতৃত্বে মেয়রের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের নামে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ ও বেনাপোল নিত্যহাট মার্কেটে ও কাস্টমস হাউসের সামনে কাজ টাওয়ারে ব্যাপক বোমা বিষ্ফোরনসহ দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুর চালিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। এছাড়া হামলাকারীরা বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাংচুরসহ হাজি মোহাম্মদউল্লা মার্কেটে হামলা ও ভাংচুরসহ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দ্বীন ইসলাম ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান আরিফের দুটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে বেনাপোল পৌর ও উপজেলা আওয়ামী লীগ মঙ্গলবার বিকালে দলীয় কার্য়ালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। এতে নেতৃবৃন্দ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফফর হোসেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, দফতর সম্পাদক আজিবার রহমান, শেখ ছরোয়ার, প্যানেল মেয়র শাহাবুদ্দীন মন্টু, যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলী, জাকির আলম, হুমায়ুন কবির প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে বন্দরে এ বোমা হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জাপ্রণ আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফফর হোসেন।

 

খুলনা গেজেট/কেএ




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন