সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার দোহাজারী গ্রামের ৩০০ বছরের অধিক পুরোনো জোড়া শিবমন্দির ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শন দ্রুত সংরক্ষণ না করা হলে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্দিরের গায়ে থাকা নামফলক সূত্রে জানা যায়, ১১০৫ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই জোড়া শিবমন্দির দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিবছর এখানে চৈত্র সংক্রান্তিতে শিব পূজা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালিত হলেও অবকাঠামোগত অবহেলায় মন্দিরটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে।
গতকাল ১৯ এপ্রিল সরেজমিন দেখা গেছে, মন্দিরের দেয়ালে নোনা ধরায় পলেস্তারা খসে পড়ছে, টেরাকোটার কারুকাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রাচীন নকশা করা দরজাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম। গম্বুজে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ছাদের ফাঁকে বটগাছ ও শেকড় গজিয়ে স্থাপনাটির কাঠামোকে দুর্বল করে তুলছে। মন্দিরের ভেতরে থাকা দুটি শিবলিঙ্গও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয় সমির চক্রবর্তী, অরবিন্দু দাসসহ অনেকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় মন্দিরটির এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। স্থানীয় ভক্তরা মন্দিরের গায়ে মাঝে মধ্যে রং করে থাকেন। কিন্তু চুন সুরকির সংস্কার তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
মন্দিরের পুরোহিত বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী বলেন, “এখানে নিয়মিত শিব পূজাসহ বিভিন্ন পূজা-অর্চনা হয় এবং ভক্তরা প্রতিনিয়ত দর্শনে আসেন। কিন্তু মন্দিরের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে এটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ফকিরহাটে অবস্থিত এ ধরনের প্রাচীন স্থাপনাগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করে সংরক্ষণে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মোঃ যায়েদ বলেন, “বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
খুলনা গেজেট/এনএম

