বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই নববধূকে বরণ করার আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল। আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী, ছোট শিশু সবাই মেতে উঠেছিলেন খুনসুটি, খাওয়া দাওয়া আর হাসি খেলাধুলায়। গ্রামের রীতিতে নববধূকে ঘিরে উচ্ছ্বাসের উঠান আজ আনন্দ নয়, বরং নিঃশব্দ শোকে ডুবে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে সব আনন্দ স্তব্ধ হয়ে যায়। এখনও ঘটনাস্থলে রয়ে গেছে শিশুর জুতা, ফিডারসহ দুর্ঘটনার ক্ষতচিহ্ন। ছোট ছোট এসব জিনিস নীরবে বলে দিচ্ছে, সেই মুহূর্তের কথা, যখন নববধূকে ঘরে ফেরানোর আনন্দ যাত্রা এক মুহূর্তে মৃত্যু আর শোকে ভেঙে পড়ে।
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজে কয়েক ঘণ্টা আগের দৃশ্য আজও চোখে ভাসে ছোট শিশুদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জুতা, দুধের ফিডার ও চুষনি যেন নিঃশব্দ সাক্ষী। এসব ক্ষতচিহ্ন থাকলেও ঝড়ে গেছে প্রাণগুলো, ফিরে আসবে না আর কখনো। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে খুলনা মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে নববধূকে বহনকারী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ভয়াবহ সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মাইক্রোবাসের চালকসহ দুই পরিবারের মোট ১৪ জন।
নববধূ, শিশু, পরিবার-সবাই একসাথে চলে গেছে। এগুলো যেন নীরব কণ্ঠ, যা বলে দিচ্ছে এখানে ছিল হাসি, খেলাধুলা, খুনসুটি; আজ সেখানে শুধু নিথর দেহ আর অজানা শূন্যতা। আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারে ছিল পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। এই দুর্ঘটনায় তার দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ এবং চার নাতির মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে থাকা তিন ছেলে, মা ও আত্মীয়-স্বজন শোকের বোঝা কাঁধে নিয়ে নীরবতায় বসে আছেন।
স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে হারানো জনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম।
খুলনা গেজেট/এনএম

