বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

পুরাতন ভবন নতুন রূপে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিশু শিক্ষার্থীরা

চিতলমারী প্রতিনিধি

বছরের প্রথমদিনে পুরাতন ভবন নতুন রূপে পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা খুব উচ্ছ্বসিত। তাদের আর ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হবে না। বয়সের ভারে বিধ্বস্ত দুই কক্ষের ভবনটি নতুন রূপে সেজেছে। নতুন রূপে সাজানোতে অবদান রাখেন চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন। বেতিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই জরাজীর্ণ ভবনটি আবারও পাঠদানের উপযোগী করে তোলায় তাঁরা দুজন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকৌশলীকে সংস্কারকৃত ভবনের সামনে পেয়ে শিশুরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২৪ নং বেতিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জাতীয়করণ হয় ১৯৮৪ সালে। প্রতিষ্ঠালগ্নে দুই কক্ষবিশিষ্ট টিনের ছাউনির এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে এ ভবনের একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও একটি কক্ষ বিদ্যালয়ের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

বিদ্যালয়ের অনেক জায়গায় দেওয়ালে ফাটল ছিল। পলেস্তারা খসে পড়ছিল। টিনের ছাউনি ছিঁড়ে ঝুলে ছিল। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হতো। কখনো বা জায়গার অভাবে বারান্দায় ক্লাস নিতে হতো। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। বিষয়টি ১৩ সেপ্টেম্বর-২০২৫ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদটি উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেনের দৃষ্টিগোচর হয়।

তিনি বিষয়টি নিয়ে ইউএনও মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সাথে আলোচনা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তাঁরা সরকারি স্বল্প বাজেটে নিজেরা তদারকি করে বিদ্যালয় ভবনটি মেরামত করান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সংস্কারকৃত ভবনটি শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহসীন কাজী জানান, “একদিকে শ্রেণি কক্ষের স্বল্পতার জন্য শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হতো। যার জন্য পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। এখন আর কোনো সমস্যা হবে না।”

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা কবিতা রাণী মন্ডল বলেন, “আমার স্কুলে ১১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।”

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “পত্রিকার খবরটি দেখে সরেজমিন পরিদর্শনে যাই। আসলে ভবনটি মেরামত খুব প্রয়োজন ছিল। তাই করেছি। এটা সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের দায়িত্ব।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন