বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনা শিবিরে সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনি বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটবেন—এমন সম্ভাবনা খুবই কম। রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগে সর্বোচ্চ একটি করে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনা স্পোর্টস ভিত্তিক মিডিয়া টিওয়াইসি স্পোর্টস।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কঠিন জয়ের পর এখন পুরো মনোযোগ নকআউট পর্বে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শনিবারের (৪ জুলাই) অনুশীলন বাতিল হলেও দলের প্রস্তুতিতে তেমন প্রভাব পড়েনি। আটলান্টায় রওনা হওয়ার আগে রোববারের (৫ জুলাই) শেষ অনুশীলনের পরই স্কালোনি চূড়ান্ত একাদশ নির্ধারণ করবেন বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে আক্রমণভাগ নিয়ে। অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে কে খেলবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা ছিল নকআউট পর্ব থেকেই জুলিয়ান আলভারেজকে আবার শুরুর একাদশে ফেরানোর। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে বাঁ গোড়ালিতে চোট পাওয়ায় তিনি এখনও পুরোপুরি ম্যাচ-ফিট নন।
সে কারণেই কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকেই খেলেন লাউতারো মার্টিনেজ। জর্ডানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করার পর তিনি একাদশে জায়গা ধরে রাখলেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি। যদিও ম্যাচে একটি চমৎকার ওয়ান-টু পাসে মেসির জন্য গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের অসাধারণ সেভে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আলভারেজ কিছুটা গতি আনলেও তিনিও উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। ফলে মিশরের বিপক্ষে মেসির সঙ্গী হিসেবে শেষ পর্যন্ত লাউতারো মার্টিনেজই থাকবেন, নাকি আলভারেজ আবার শুরুর একাদশে ফিরবেন—সেই সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঝুলে থাকতে পারে।
রক্ষণভাগেও রয়েছে কিছুটা অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে বাম-ব্যাক পজিশনে স্কালোনির সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে ভালো খেললেও পরের ম্যাচে সুযোগ পান ফাকুন্দো মেদিনা। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিয়মিত একাদশের সদস্য নিকোলাস তাগলিয়াফিকো আবারও নিজের জায়গা ফিরে পেতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে মেদিনার শারীরিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে তার পেশিতে টান লাগে। আগামী মঙ্গলবারের (৭ জুলাই) ম্যাচের আগে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে না পারলে তাগলিয়াফিকোর ফেরার সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে।
মাঝমাঠেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দলের সৃজনশীলতা ও ভারসাম্য বাড়াতে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে। তিনি খেললে ডিপ-লাইং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় থাকবেন, ফলে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার আরও সামনে উঠে আক্রমণে বেশি ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে নিকোলাস গঞ্জালেসও রয়েছেন স্কালোনির ভাবনায়। তিনি সুযোগ পেলে ফরমেশনে বড় পরিবর্তন না এলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণে আরও গতি ও সরাসরি ফুটবলের ছাপ দেখা যেতে পারে। পারেদেস বা গঞ্জালেস—যিনিই একাদশে জায়গা পান না কেন, শুরুর একাদশ থেকে থিয়াগো আলমাদার বাদ পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সব মিলিয়ে স্কালোনির কাছ থেকে বড় কোনো চমক আসার সম্ভাবনা কম। বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, কেপ ভার্দের বিপক্ষে যে দলটি খেলেছিল, সেটিকেই মূল ভিত্তি হিসেবে রাখবেন তিনি। ফলে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন এলেও তা হবে সীমিত পরিসরে। দলের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেই নকআউটের কঠিন পরীক্ষায় নামতে চান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ।
খুলনা গেজেট/এনএম

