বিশ্বকাপের নকআউটে প্রথম জয়ের ইতিহাস গড়ল মিশর। পেনাল্টি শ্যুটআউটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে মোহামেদ সালাহর দল।
নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও ফলাফল না আসায় খেলা নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। শুরুতে দুটি টসেই জিতে যান মিশরের অধিনায়ক সালাহ। সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি আগে পেনাল্টি নিতে পাঠান অস্ট্রেলিয়াকে।
কেন, সেটার প্রমাণ মিলল একটু পরই। টাইব্রেকারে প্রথম শট নিতে এসে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউটার। এরপর একে একে গোল করেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। তৃতীয় শট নিতে আসা সালাহ নিজে নেন সাহসী এক পেনাল্টি, পানেনকা শটে বল জড়ান জালে। তার ঠিক পরেই অস্ট্রেলিয়ার লুকাস হেরিংটনের শট বাইরে চলে যায়। এরপর আবদেল মাজিদ গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে বল ঠেলে দেন জালে। আর তাতেই ৪-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে নেয় মিশর।
নির্ধারিত সময়ের খেলাতেও এগিয়ে ছিল মিশরই। ১২ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল দলটি। বক্সের ডান পাশে ফ্রি কিক থেকে কারিম হাফিজের ক্রসে হেডে গোল করেন ইমাম আশুর। এই গোলের ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দল দুটি। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৪ মিনিটে সেটপিস থেকে গোল করে অস্ট্রেলিয়া সমতায় ফেরে আত্মঘাতী গোলে। সে গোলটি আসে মোহামেদ হানির কাছ থেকে, যা এবারের বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোল।
ইনজুরি সময়ে জয়সূচক গোলের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল মিশর। সালাহর পাসে অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ানকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন রাবিয়া, তবে তার শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। শেষমেশ ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারে, যেখানে শেষ হাসি হাসে মিশরই।
তাতে ইতিহাসও গড়া হয়ে গেছে ফারাওদের। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়েছে আরব-আফ্রিকার এই দেশ। শেষ ষোলতে এবার তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের বিজয়ী দল।

