বিশ্ব ফুটবলের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র ৮ দিন বাকি। গ্লোবাল ডিকশনারিতে সবচেয়ে চেনা শব্দগুলোর তালিকা করলে ওপরের দিকেই থাকবে ‘ফুটবল’। আফ্রিকার বিদ্যুৎহীন, অনুন্নত গ্রাম থেকে শুরু করে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের যে কোনো আধুনিক মেগাসিটি- ভৌগোলিক ও সামাজিক সব ব্যবধান এক নিমিষেই মুছে দিতে পারে এই একটি গোল চামড়ার বল।
সময়ের পরিক্রমায় আবারও আর একটি ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের ঘরের দুয়ারে দাড়িয়ে। ফুটবল বিশ্বকাপ এর জ্বরে সারা পৃথিবীর মত কাঁপছে বাংলাদেশও। সারা বছর ক্রিকেটের ভিড়ে ফুটবল আড়ালে থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপ এলে বাঙ্গালীর ফুটবল প্রেম কিংবা উন্মাদনা চোখে পরার মত। প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় ইতিমধ্যেই তাদের পছন্দের দল এর সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। নিজের পছন্দের দলের গুণগান করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের দুর্নাম করায় ব্যস্ত সবাই। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যকার শীতল যুদ্ধ উপভোগ্য। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২০২৬ সালের জমজমাট আসর। বিশ্বকাপের পূর্বের আসরগুলোতে জড়িয়ে আছে হাসি- কান্না , সাফল্য – ব্যর্থতার মুহূর্ত। আসুন ফিরে দেখি বিশ্বকাপ ফুটবলের কিছু বিতর্কিত, কলঙ্কিত এবং স্মরণীয় মুহূর্ত।
সাউথ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০১০ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ঘানা এবং উরুগুয়ে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হয়। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত মিনিটে। আফ্রিকার শেষ প্রতিনিধি ঘানা দাপটের সাথেই মোকাবেলা করছিল ল্যাটিন আমেরিকার জায়ান্ট উরুগুয়ের সাথে।
ভাগ্য সুপ্রশন্য থাকলে ঘানা চলে যেতে পারত সেমিফাইনালে। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ান লুইস সুয়ারেজ, না ফুটবল নৈপুণ্যে নয়। তার কাপুরুষোচিত আচরণে উরুগুয়ে চলে যায় সেমিফাইনালে। অতিরিক্ত মিনিটের শেষ মিনিটে ঘানার স্ট্রাইকার ডমিনিক আদিয়াস এর হেড থেকে বল যখন নিশ্চিত গোল লাইন অতিক্রম করছিল। তখন সুয়ারেজ ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দিয়ে বল ঠেকান। যার ফলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বেড়িয়ে যেতে হয় তাঁকে। কিন্তু পেনাল্টি থেকে ঘানা গোল করতে ব্যর্থ হয়। এবং পরবর্তীতে টাইব্রেকারে উরুগুয়ের কাছে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ঘানা বিদায় নেয়।
শত বিতর্ক থাকলেও বিশ্বকাপ ফুটবল এর আবেদন দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের জনপ্রিয়তা এখন গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় আমাদের ঘরোয়া ফুটবলও ফিরে পাক তার পুরনো ঐতিহ্য। আর্জেন্টিনা- ব্রাজিল এর মত মোহামেডান – আবাহানির সমর্থকরা যেন আবার মেতে উঠতে পারি সমর্থন যুদ্ধে।
খুলনা গেজেট/এএজে

