বিশ্ব ফুটবলের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র ১২ দিন বাকি। গ্লোবাল ডিকশনারিতে সবচেয়ে চেনা শব্দগুলোর তালিকা করলে ওপরের দিকেই থাকবে ‘ফুটবল’। আফ্রিকার বিদ্যুৎহীন, অনুন্নত গ্রাম থেকে শুরু করে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের যে কোনো আধুনিক মেগাসিটি- ভৌগোলিক ও সামাজিক সব ব্যবধান এক নিমিষেই মুছে দিতে পারে এই একটি গোল চামড়ার বল।
সময়ের পরিক্রমায় আবারও আর একটি ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের ঘরের দুয়ারে দাড়িয়ে। ফুটবল বিশ্বকাপ এর জ্বরে সারা পৃথিবীর মত কাঁপছে বাংলাদেশও। সারা বছর ক্রিকেটের ভিড়ে ফুটবল আড়ালে থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপ এলে বাঙ্গালীর ফুটবল প্রেম কিংবা উন্মাদনা চোখে পরার মত। প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় ইতিমধ্যেই তাদের পছন্দের দল এর সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। নিজের পছন্দের দলের গুণগান করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের দুর্নাম করায় ব্যস্ত সবাই। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যকার শীতল যুদ্ধ উপভোগ্য। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২০২৬ সালের জমজমাট আসর।
বিশ্বকাপের পূর্বের আসরগুলোতে জড়িয়ে আছে হাসি- কান্না , সাফল্য – ব্যর্থতার মুহূর্ত। আসুন ফিরে দেখি বিশ্বকাপ ফুটবলের কিছু বিতর্কিত, কলঙ্কিত এবং স্মরণীয় মুহূর্ত।
জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফ্রান্স এবং জিনেদিন জিদান ভক্তদের জন্য এক মর্মপীড়াদায়ক ম্যাচ। ১৯৯৮ এর ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক জিনেদিন জিদান একাই দলকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে। খেলার প্রথমার্ধে ৭ মিনিটেই প্যানাল্টি থেকে গোল করেন জিনেদিন জিদান। ১২ মিনিটের ব্যবধানে ম্যাক্রো মাতিরাজ্জি গোলে সমতায় ফিরে ইতালি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট আর কোন গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় এক্সট্রা টাইমে। অতিরিক্ত সময়ে জিনেদিন জিদান এর একটি হেড ইতালির গোলরক্ষক বুফনের হাতে লেগে ক্রসবারে আঘাত হানে। জিনেদিন জিদান দলকে জয় এর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ১০৭ মিনিটে জিনেদিন জিদান এর সেই বিখ্যাত হেড অবাক করে বিশ্ববাসীকে।
এবারের হেডটি বলে নয় সরাসরি মারলেন ইতালির ম্যাক্রো মাতিরাজ্জি এর বুকে। সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান ফ্রান্সের আশার প্রদীপ জিনেদিন জিদান। প্যানাল্টি শুট আউটে ৫-৩ গোলে ইতালির কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। মুহূর্তেই হিরো থেকে ভিলেনে পরিণত হন জিনেদিন জিদান।
খুলনা গেজেট /এমএম

