লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC মমতাপন্হী বা কালীঘাট তৃণমূল) সংসদীয় দলের নতুন উপদলনেতা বা ডেপুটি লিডার পদে নিযুক্ত হলেন প্রবীণ সাংসদ-অধ্যাপক সৌগত রায়। (কালীঘাট) তৃণমূল কংগ্রেসের (Kalighat TMC) সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের পরই এই ঘোষণা করা হয়েছে। দলনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছে দল।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “প্রবীণ সাংসদ অধ্যাপক সৌগত রায়ের অগাধ জ্ঞান এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সংসদীয় দলকে পরিচালনা করতে দারুণভাবে সাহায্য করবে। নতুন দায়িত্বভার গ্রহণের পর তার নতুন ইনিংস এবং মেয়াদের জন্য তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।”
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। একটি কালীঘাট অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল এবং অন্যটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী। তবে শুধু বিধানসভা নয়, লোকসভাতেও তৃণমূলের সংসদীয় দল হাতছাড়া হয়েছে মমতার। লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিন বিদ্রোহী শিবিরে।
পরবর্তী সময়ে দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা এনসিপিআই (NCPI) নামে নতুন দলে যোগ দিয়েছেন। তবে জল্পনা, সরাসরি বিজেপি তথা এনডিএ জোটেও যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। যদিও এখনও কোনও পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে নিট-এর পেপার লিক আর দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ছাত্র বিক্ষোভের জন্য উত্তাল রয়েছে সংসদও।
এদিকে আবার মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, কুরুচিকর মন্তব্য এবং অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে লোকসভার চলতি বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ জানান তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakali Ghosh Dastidar)। তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেই অভিযোগে দাবি করা হয়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলা সাংসদদের উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন এবং এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা সংসদের মর্যাদার পরিপন্থি ও অসংসদীয়।
অন্য এক এনসিপিআই সাংসদ মিতালী বাগের সঙ্গেও বচসায় জড়িয়ে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তার বিরুদ্ধেও কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে। একাধিক মহিলা সাংসদের তরফে অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।
খুলনা গেজেট/এএজে

