দিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তারা পুলিশ সদস্যদের সব ধরনের নিয়মিত ছুটি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনও পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ বা কোর্সে অংশ না নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) পুলিশ সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জারি করা এ নির্দেশনা দিল্লির সব জেলার উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি), ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও), ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নৈমিত্তিক ছুটি (ক্যাজুয়াল লিভ) ও অর্জিত ছুটিসহ (আর্নড লিভ) কোনও নিয়মিত ছুটি দেয়া হবে না। শুধু প্রকৃত জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ছুটি মঞ্জুর করা হবে।
এ ছাড়া পুলিশ কমিশনারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ বা কোনও কোর্সে অংশ নেয়ার অনুমতিও দেয়া হবে না।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে পুলিশ সদস্যদের, গেজেটেড কর্মকর্তাসহ (জিও), সব ধরনের নিয়মিত ছুটি— যেমন ক্যাজুয়াল লিভ, আর্নড লিভ ইত্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বাতিল থাকবে। শুধু প্রকৃত জরুরি পরিস্থিতিতে যথাযথ যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের পর ছুটি দেয়া হবে। সব ডিসিপিকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার, নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন।
গত ২০ জুলাই সিজেপির নেতৃত্বে হাজারো বিক্ষোভকারী ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি নিয়ে যন্তর মন্তরে জড়ো হন। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তারা সেখানে সমাবেশ করেন। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশ সদস্য ও বিক্ষোভকারী— উভয় পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হন।
খুলনা গেজেট/এএজে

