রবিবার । ১৪ই জুন, ২০২৬ । ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, শান্তিচুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ রোববার চুক্তি সই হবে বললেও, চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেছে ইরান। চুক্তি ও এর পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে।

শনিবার (১৩ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, রোববার চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপর হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হবে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর রোববার হবে না বলে জানান তিনি। তবে তিনি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি।

ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাঘেই বলেন, স্বাক্ষরের সঠিক সময়ের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যদিও চুক্তি রোববার হচ্ছে না, তবে আগামীতে চুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ইরানের সতর্ক অবস্থান ও পরমাণু ইস্যু

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের পক্ষ থেকে চুক্তির প্রক্রিয়াটি নিয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ইসমাইল বাঘেই বলেন, এই চুক্তি তথা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকটি’ লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষ করার ওপর আলোকপাত করছে। এই পর্যায়ে পারমাণবিক বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা করা হবে না।

অথচ ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান আর পারমাণবিক অস্ত্র চায় না। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে ওয়াশিংটনের ‘দ্বিধার’ কথা উল্লেখ করে বাঘেই বলেন, ইরানকে অবশ্যই ‘সতর্ক’ থাকতে হবে। আগামী দুই দিনে ইরানের আলোচনা দলের জেনেভা বা অন্য কোথাও যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

তবে বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকটি শিগগিরই চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ‘খুবই বেশি’ বলে তিনি জোর দিয়েছেন।

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের বক্তব্য ও ট্রাম্পের পরিকল্পনা

এই চুক্তির পেছনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গত এপ্রিলে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধের যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছেন। এরপর থেকে শান্তি আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত রয়েছে পাকিস্তান। শেহবাজ জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প তার পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, অঞ্চলটি শান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম খুঁজে বের করে ধ্বংস করবে। উপযুক্ত সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হবে, আমরা আমাদের চমৎকার বি-২ বোমারু বিমান এবং তাদের প্রতিভাবান পাইলটদের মাধ্যমে গ্রানাইট পাহাড়ের গভীরে রাখা পারমাণবিক ধূলিকণাগুলো নিয়ে আসব এবং ধ্বংস করব।

সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এই চুক্তিকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের পথে একটি প্রাচীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, তেহরান আর পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং তারা অন্য কোনো উপায়ে তা পাবেও না।

আগের যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনগুলোর ইরান নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের প্রশাসনগুলোর চেয়ে অনেক আলাদা এবং উন্নত। এই চুক্তির ক্ষেত্রে তেহরানের সঙ্গে কোনো অর্থের লেনদেন হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

তেহরান এবং সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, আমরা দীর্ঘ ভবিষ্যতে ইরান এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ। আশা করি, এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং সহজে সম্পন্ন হবে। যদি তা না হয়, তবে আমাদের কাছে চূড়ান্ত বিকল্প রয়েছে, যা আশা করি আর কখনও ব্যবহার করতে হবে না!

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন