ঢাকায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের উপর হামলার প্রতিবাদে ও জাতীয় পার্টির নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার(২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ সমবেত হয়।
এসময় হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারসহ তিনদফা দাবি জানান তারা। অন্য দাবিগুলো হলো, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করতে হবে, জিএম কাদেরকে গ্রেফতার ও জাপাকে আগামী ৩টা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া যাবে না।
মিছিলে, নূরের উপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব চাই, আমার ভাই আহত কেন, ইন্টেরিম জবাব দে, আমার সোনার বাংলায়, জাতীয় পার্টির ঠাই নাই, কন্ঠে আবার লাগা জোর, ফ্যাসিবাদের কবর খোর, লীগ গেছে যেই পথে, জাপা যাবে সেই পথে, আপা গেছে যেই পথে, জাপা যাবে সেই পথে, ফ্যাসিবাদের সঙ্গী, জাপা জঙ্গি, জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে, ভারতীয় ষড়যন্ত্র রুখে দাও,রুখে দাও, দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা, জুলাই যোদ্ধার উপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব চাই সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা বলেন, আজকে জুলাই যোদ্ধা, ভারতীয় আগ্রাসনের তীব্র বিরোধিতাকারী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের উপর অতর্কিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যখন দেশে নির্বাচনি আমেজ তৈরি হয়েছে তখন আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের জন্য জাতীয় পার্টি মাঠে নেমে পড়েছে। আওয়ামীলীগ পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র হিসেবে আজকের এই হামলা পরিকল্পিত করা হয়েছে। জুলাইয়ের ঐক্যবদ্ধ শক্তি পরাজিত করতে তাদের এই হামলা অ্যাসিড টেস্ট হিসেবে দেখছি আমরা। এই জাতীয় পার্টি আওয়ামীলীগের প্রধান দোসর। কিন্তু এখন পর্যন্ত কি কারণে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়নি?
তারা আরও বলেন, আজকে ভিপি নূরকে হামলা করা হয়নি বরং চব্বিশের রক্তাক্ত জুলাইয়ের উপরে হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইন্টেরিম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এজন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে এর জবাব দিতে হবে। ইন্টেরিমের ভিতেরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আত্মা এখনো রয়ে গেছে। ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদ কায়েম করতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ইন্ধনে জাতীয় পার্টি কাজ করছে। তারা ভারতীয় আধিপত্য কায়েম করতে চায়, এটা তাদের দিবাস্বপ্ন। ইতিহাস সাক্ষী আমরা কখনো ভারতীয় আধিপত্যকে মেনে নেইনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবির সাবেক সম্বয়ক এস এম সুইট বলেন, আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি। কারণ আজ সেনাবাহিনী নির্লজ্জভাবে নূরসহ তার নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে আহত করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে।
প্রসঙ্গত, আজ ঢাকার বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এ সময় নুরুল হক নূরসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। এসময় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ আহত ৭ নেতাকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
খুলনা গেজেট/এএজে