শিক্ষক প্রশিক্ষণে বাংলাদেশকে ৯৯ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে জিপিই

গেজেট প্রতিবেদন

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রূপান্তর এবং গুণগত মানোন্নয়নে বাংলাদেশকে প্রায় ৯৯ মিলিয়ন (৯ কোটি ৯০ লাখ) মার্কিন ডলার অর্থায়ন দিচ্ছে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই)। এই অর্থায়নের আওতায় দেশের প্রায় ৭ লাখ শিক্ষক পেশাগত উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাদানের প্রশিক্ষণ পাবেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে শিক্ষা খাতে জনস্বার্থমূলক ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ, যা ভবিষ্যতে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জিপিইর নতুন এই অর্থায়নের মধ্যে ৪৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের ‘সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট’ (এসটিজি) এবং ৫০ মিলিয়ন ডলারের ‘মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’ (এমজি) রয়েছে। এডুকেশন লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপের (ইএলসিজি) সঙ্গে আলোচনা করে সরকার এসটিজি বাস্তবায়নের জন্য ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোকে এবং মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্টের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংককে (এডিবি) অনুদান সহযোগী (গ্রান্ট এজেন্ট) হিসেবে নির্বাচন করেছে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া চার বছর মেয়াদি ‘সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৬ লাখ ৭৭ হাজার শিক্ষক উপকৃত হবেন। এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষকদের নিয়োগ, পদায়ন, পেশাগত উন্নয়ন, পদোন্নতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে একটি লিঙ্গ-সংবেদনশীল (জেন্ডার-রেসপনসিভ) কাঠামো গড়ে তোলা হবে। ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর কারিগরি সহায়তায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে প্রাক্-চাকরি শিক্ষক শিক্ষণ ব্যবস্থা চালু, শিক্ষকদের মেন্টরিং এবং একাডেমিক নেতৃত্ব শক্তিশালী করতে কাজ করবে।

অন্যদিকে, ৫০ মিলিয়ন ডলারের ‘মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’ কর্মসূচি ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এটি এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ‘নেক্সটজেন এডুকেশন প্রোগ্রাম’-এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। এর মূল লক্ষ্য শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষক প্রযুক্তিবান্ধব ও মিশ্র (ব্লেন্ডেড) শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রশিক্ষণ পাবেন। এডিবি এ কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে জিপিইর অংশীদারত্ব দীর্ঘদিনের। এর আগে ২০১৫ সালে শিক্ষা খাতের নীতিনির্ধারণ এবং ডাটা সিস্টেমের সংস্কারের জন্য বাংলাদেশ ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের ‘সিস্টেম ক্যাপাসিটি গ্রান্ট’ পেয়েছিল।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন