মঙ্গলবার । ১৬ই জুন, ২০২৬ । ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩

বিস্ফোরণের আগুনে শেষ হয়ে গেল গোটা পরিবার, মৃত্যু ৪

গেজেট প্রতিবেদন

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুরে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ একই পরিবারের শেষ সদস্য ১৩ বছর বয়সী মিমও মারা গেছে। তার মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেল গোটা পরিবার। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোররাত ১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিমের মৃত্যু হয়।

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান মঙ্গলবার দুপুরে মিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মিমের শরীরের ৫১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এছাড়া তার শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে একই ঘটনায় গত শুক্রবার (১২ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিমের মা সুলতানা বেগম (৩৫)। তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এরপর সোমবার (১৫ জুন) ভোরে মারা যান পরিবারের কর্তা আব্দুল মান্নান (৫০), যার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। একই দিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে মারা যান তাদের ছেলে সিয়াম (১৯)। তার শরীরের ৭৭ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

মিমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আব্দুল মান্নানের পরিবারের চার সদস্যের সবাই প্রাণ হারালেন। কয়েক দিনের ব্যবধানে পুরো পরিবারটিই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বর্তমানে এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে শুধু প্রতিবেশীর শিশু হযরত আলী (৮) জীবিত রয়েছে। ৮ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় সে হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকার একটি একতলা বাড়িতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজন দগ্ধ হন।

কাঁচপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাড়িটিতে তিতাস গ্যাসের সংযোগের পাশাপাশি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগও ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। সকালে রান্নার জন্য আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন