শুক্রবার । ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৬ই মাঘ, ১৪৩২

‘গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো পক্ষে অবস্থান নেবেন না’

গেজেট প্রতিবেদন

গণভোট নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানুষকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন, কিন্তু হ্যাঁ বা না- এর পক্ষে ভোটের ব্যাপারে কোনো অবস্থান নেবেন না জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১ নম্বর ধারাতে ক্যাটাগরিক্যালি (সুনিশ্চিতভাবে) বলে দেওয়া হয়েছে যে সাধারণ নির্বাচনের জন্য যা যা কিছু ভায়োলেশন (লঙ্ঘন), গণভোটের জন্যও সেটা ভায়োলেশন। তো সাধারণ নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো পক্ষ অবলম্বন করে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ নাই- এ ব্যাপারটা আমরা স্পষ্টিকরণ করে দিয়েছি। তার মানে এটা দাঁড়াবে এ রকম যে, গণভোট নিয়ে আমাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানুষকে অবহিত করতে পারবেন, সচেতন করতে পারবেন, কিন্তু হ্যাঁ বা না-এর পক্ষে ভোটের ব্যাপারে কোনো অবস্থান নেবেন না।

নির্বাচনে পটুয়াখালী জেলার প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট হয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র বাকি আছে ১২ দিন। আমরা এখানকার প্রিপারেশন দেখে সন্তুষ্ট, আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট। আমি অত্যন্ত আশাবাদী- ইনশাল্লাহ পটুয়াখালীতে খুব ভালো নির্বাচন হবে।

নির্বাচনে ভোটের হার নিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো শতাংশের ওপর নির্ভর করে না। আমরা তো চাই শতকরা ১০০ ভাগ মানুষ ভোটকেন্দ্রে আসুক এবং আমরা সহায়ক পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করব- করেছিও। আমরা আশাবাদী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

দেশব্যাপী নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে সার্বিকভাবে যে পরিবেশ থাকে, এবারে তা ভালো বৈ মন্দ নয়, এটা হলো আমাদের ওভারঅল অ্যাসেসমেন্ট (মূল্যায়ন)। কিছু ঘটনা যে ঘটছে না, তা নয়- এগুলো না ঘটলে আরও ভালো হতো। সবগুলোকে আমার মনে হয় ‘সংঘর্ষ’- এ ধরনের শব্দচয়ন না করাই ভালো। নির্বাচনের সময় কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় কিছু শব্দচয়ন হয়, সমর্থকদের মধ্যে কিছু ইউফোরিয়া কাজ করে- এগুলো যাতে সীমিত পর্যায়ে থাকে, সবাই যাতে পরিমিত বোধের মধ্যে কাজ করে- এটা আমাদের মেসেজ।

এলাকাভিত্তিক সম্প্রীতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, আমরা চাই না যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হোক। আমরা এই সমাজেই বাস করব- নির্বাচনের পরেও।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা- দীর্ঘ খরার পর। ইনশাল্লাহ সে পথে আমরা হাঁটছি এবং এটা হবে।

এ সময় পটুয়াখালীর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, পটুয়াখালী জেলার উপজেলাসমূহের উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ (ইউএনও) ছাড়াও জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন