আজ ১৯ জানুয়ারি। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালে বগুড়ার গাবতলীর নিভৃত জনপদ বাগবাড়ির এক মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৩ সালে তিনি যোগ দেন সে সময়ের পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার হিসেবে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । দায়িত্ব পালন করেন মুক্তিযুদ্ধের একটি স্বতন্ত্র সেক্টরের। তার নামে গড়ে ওঠা জেড ফোর্স রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে দুঃসাহসিকতায়।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন তিনি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি তিন বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানে নিহত হন।
স্বাধীনতা-উত্তর দেশ ছিল এক চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। দুর্নীতিগ্রস্ত, অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর ও রাজনৈতিকভাবে অস্থির দেশকে তিনি দৃঢ় হাতে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি ‘আমার কর্মই আমার পরিচয়’ এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, যোগাযোগ, সামরিক, ও কূটনৈতিক খাতে তাঁর দূরদর্শী পদক্ষেপ বাংলাদেশকে একটি নতুন গতিতে এগিয়ে দেয়। তিনি দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেন, ‘বিশ্বের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ এ নীতির মাধ্যমে দেশকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করে তোলেন। গ্রামের পর গ্রাম, খনন করেছেন খাল, কৃষকের বাড়িতেও যান। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দেন উৎসাহ। কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ তাই কৃষিকাজকে বৈজ্ঞানিক রূপ লাভ করার জন্য সকল ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন। তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত ব্যয় করেছেন। একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে তিনি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলেছেন নিজের মতন করে। সকল দুর্নীতি ও অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে তিনি এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলেন। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর জন্য অর্থনীতিকে করেছিলেন শক্তিশালী। আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য সার্ক গঠনের চিন্তা তিনিই করেছিলেন। দেশকে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। তৎকালীন সময় প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছিলেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের যে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয় তা তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে, একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে চট্টগ্রামে নিহত হন তিনি। দেশ হারায় একজন সাহসী রাষ্ট্রনায়ককে, একজন স্বপ্নদ্রষ্টাকে। তবে মৃত্যুর পরও তিনি জনমনে অমর, ইতিহাসে স্মরণীয়।

