বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২
জকসু নির্বাচন

শিবিরের ভিপি প্রার্থীর স্ত্রীকে হেনস্তা ও পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

গেজেট প্রতিবেদন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য পরিষদের ভিপি (সহসভাপতি) প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মাহিমা আক্তারকে হেনস্থা ও পরে পুলিশে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মহিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন ওই শিক্ষার্থী। এ সময় হিজাব ও নিকাব পরিহিত ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তাকে দেখে তার পরিচয় জানতে চেয়ে নিকাব ও মাস্ক খুলতে বলেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দীন বাসিত, শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম, বর্তমান সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন, জবি শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম, সেক্রেটারী ও উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা পুলিশের কাভার্ড ভ্যান আটকে সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন।

এ সময় ভুক্তভোগী ও শিক্ষার্থী মাহিমা বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলাম তখন ছাত্রদলের ভাইয়েরা এসে আমাকে হেনস্থা করে। সঙ্গে আমার এক আত্মীয় ছিল। আমরা গেটের বাইরেই অবস্থান করছিলাম। এ সময় আমি হিজাব পরিহিত থাকায় আমাকে হিজাব ও মাক্স খুলতে বলে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘মহিমা আমার স্ত্রী ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বাইরে আমাদের প্যানেলের হয়ে কাজ করছিলেন। এদিন সকাল থেকেই ছাত্রদল গেটের বাইরে ধাক্কাধাক্কি করে। পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহিমা ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর এটি সমাধান করে দিয়েছি।

উল্লেখ্য, কয়েক দফা পিছিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ভোট গ্রহণ আধা ঘণ্টা পরে সকাল ৯টায় শুরু হয়।। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের দীর্ঘলাইন দেখা গেছে।

এবারের জকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ভোটগ্রহণ বুথ থাকবে। ভোটগ্রহণ শেষে ৬ টি ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান জানান, মঙ্গলবার সকালে ভোট শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে রাতে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ শেষে ডিজিটাল ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) মেশিনের মাধ্যমে ভোটগণনা করা হবে।

এর আগে দুই দফা পিছিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা বিগত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। এদিন নির্বাচন শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর প্রেক্ষিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এরপর দিনভর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ফের জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখযোগ্য প্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ ও বামপন্থী মওলানা ভাসানী ব্রিগেড প্যানেল। এছাড়া একটি আংশিক প্যানেল ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রয়েছেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন