ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও মিছিল করেছে জাতীয় কংগ্রেস সহ বিভিন্ন বিরোধী দল। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অন্তর্তদন্তমূলক রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সরগরম জাতীয় রাজনীতি।
উক্ত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশীকে অন্ধকারে রেখে একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমার। বিশেষ করে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, এসআইআর (SIR) এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ও যুক্ত করা নিয়ে এই দুই কমিশনার আপত্তি জানিয়েছেন। এর পরেই সাংবাদিকে বৈঠক করে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন রাহুল গান্ধী এবং সিইসির পদত্যাগ দাবি করেন।
শুক্রবার এই দাবিতে দিল্লির নির্বাচন কমিশন দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস সমর্থকেরা।
ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টায় যোগেন্দ্র যাদব, আইসা নেত্রী নেহা বোরা, অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং দীপঙ্কর ভট্টাচার্য সহ একাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় যুব কংগ্রেসের কর্মীরা জ্ঞানেশ কুমারের মুখাকৃতির মুখোশ পরে ও হাতে হাতকড়া পরে রায়সীনা রোড থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় পর্যন্ত স্লোগান দিতে দিতে মিছিল করেন। দিল্লি কংগ্রেস সভাপতি দেবেন্দ্র যাদব বলেন, ভারতবর্ষে গণতন্ত্র শেষ হতে দেওয়া হবে না, দায়ীদের শাস্তি পেতেই হবে।
দিল্লির পাশাপাশি আসামে জেলা কংগ্রেস প্রধান গৌরব গগৈ সহ একাধিক কর্মী আটক হন। পাটনায় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফ অভিমুখে যাওয়া মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। পুদুচেরি, ইম্ফল, সিমলা, শ্রীনগর, দেরাদুন, জম্মু এবং কলকাতার মতো প্রধান শহরগুলোতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় এ দিন প্রতিবাদ মিছিল বের করে কংগ্রেস।

