জলাশয় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

চিতলমারী প্রতিনিধি

চিতলমারীতে বলগেট এবং ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের জরিমানার পরও ভূগর্ভ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন এবং পরিবহন করছেন স্থানীয় একটি চক্র। এতে চিতলমারীর নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো তলাশূন্য হয়ে পড়ছে। যেকোন মুহূর্তে বিভিন্ন স্থানের মাটি দেবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে গ্রামবাসী।

অপরদিকে ছোট্ট খালে বড় বলগেট দিয়ে বালু পরিবহন করায় দুটি পাঁকা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বলগেট এবং অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। তাঁরা অবৈধ বালু কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

অভিযোগ পত্রে জানা গেছে, দুটি পাইপ বালু তুলতে মাটির নিচে যায়। একটি পাইপ তলদেশের শুকনো বেলেমাটি পানি দিয়ে ভেজাতে থাকে এবং অন্য পাইপটি ভেজা মাটি চুষতে থাকে। ভূগর্ভস্থ এই চুষে নেওয়া পানি মেশানো বেলেমাটি পাইপের মাধ্যমে তোলা হয়। এই যন্ত্রটি দিনে কয়েক হাজার ফুট ভূগর্ভস্থ বেলেমাটি তোলে। এ কারণে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ড্রেজারকে স্থানীয়রা ‘আত্মঘাতী’ বলে। এ রকম প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ডেজার মেশিন এ উপজেলায় রয়েছে। এ মেশিন দিয়ে উপজেলার খড়মখালী, পাঙ্গাশিয়া, নালুয়া, পিঁপড়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রামে বেপরোয়া ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে সরকারি রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে।

এছাড়া চিতলমারী সদর বাজারের পাশে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নবীর সরদার ও কামাল মেম্বার লাইসেন্স ও রুট পারমিট বিহীন অবৈধ বলগেট দিয়ে জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া চরকুড়াতলা এলাকার বিভিন্ন কৃষি জমি ও জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন করছে। ছোট্ট খালে তাদের বিশাল বলগেটের ঢেউয়ের তোড়ে বাবুগঞ্জ বাজার থেকে চিতলমারী বাজার পর্যন্ত পাকা দুটি গ্রামীণ সড়ক চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ইতোমধ্যে রাস্তা দুটির বিভিন্ন জায়গা ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বলগেটের ধাক্কায় বোয়ালিয়া-খলিশাখালী লোহার পুলটি হেলে পড়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে শেরে বাংলা কলেজ জামে মসজিদটি। বলগেট চালাতে হলে সরকার কর্তৃক রুট পারমিট ও ট্রলারের লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। এ ঘটনা থেকে প্রতিকার পেতে উপজেলার অর্ধশত মানুষ বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন।

এ ব্যাপারে আবেদনকারী বাশার খাঁন, মোঃ জসিম শেখ ও মোঃ রফিকুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, “লাইসেন্স ও রুট পারমিট বিহীন অবৈধ বলগেট ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাকা গ্রামীণ সড়ক এবং মসজিদ রক্ষার জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। যত্রতত্র এই বালু উত্তোলন প্রতিরোধ করতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ বাস্তবায়ন করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।”

নবীর সরদার জানান, বলগেটে বালু পরিবহন অবৈধ নয়। তার ট্রলার ও বলগেটের রুট পারমিট এবং লাইসেন্স আছে।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার জানান, ভূগর্ভের বালি বা মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। এটি বন্ধে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন