তখন দেশে সামরিক শাসন। তারপরেও ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই ঘরোয়া রাজনীতির অনুমতি দেয় সামরিক শাসক। ১৯৭৭ সাল থেকে দেশে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতির সূচনা হয়। মুসলীম লীগ, ন্যাপ (ভাসানী) ও পূর্ব বাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি এর সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট, জাগদল আত্মপ্রকাশ করে। দিনটি ১৯৭৮ সালের ১ মে। খুলনায় আওয়ামী লীগ বিরোধী ও মশিউর রহমান যাদু মিয়ার অনুসারীরা নয়া দলের দিকে ঝুঁকে পড়ে। আওয়ামী লীগ ও বামপন্থীরা নয়া এ প্লাটফর্মের দিকে প্রতিনিয়ত নজর রাখতেন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাগদল বিলুপ্তি করে বিএনপি নামক নতুন রাজনীতি দলের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে এ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মরহুম আমির আলি জোয়াদ্দার, সাবেক স্পীকার শেখ রাজ্জাক আলী, একেএম জিয়াউদ্দিন পল্টু, কেইউজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদ আলী খান, সাবেক বস্ত্রমন্ত্রী এম মুনসুর আলী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এ্যাড. মোমিন উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ ঈসা, এ্যাড গাজী আব্দুল বারী ও কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম। আজকের বিএনপি অফিসের বিপরীতে দোতলায় দলের অফিস নেওয়া হয়। পরবর্তীতে একেএম জিয়াউদ্দিন পল্টুর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মালেক চেম্বারের দোতলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
আত্মপ্রকাশের সময় যুব সংগঠনের সাথে সম্পৃক্তদের মধ্যে জীবিত আছেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে বাগেরহাট-১ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের ১২ মে তাকে আহবায়ক করে খুলনা জেলা যুবদলের কমিটি আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠালগ্নের সদস্যরা হলেন, এসএম শফিকুল আলম মনা, সাহারুজ্জামান মোর্তজা, জালাল শরীফ, ফখরুল আলম, সিরাজুল ইসলাম মেজভাই, হুমায়ুন কবীর বাবুল, ইকতিয়ার উদ্দিন বাবলু, মনিরুল ইসলাম মনি প্রমুখ।
স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উন্নয়ন তৎপরতায় সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য শ্রমিক নেতা মো: আশরাফ হোসেন ন্যাপ ত্যাগ করে বিএনপি’র সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৭৯ সালে এ দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি’র খুলনায় সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানোর জন্য তৎপর ছিলেন এম মুনসুর আলী, শেখ রাজ্জাক আলী, এ্যাড মোমিন উদ্দিন আহমেদ, একেএম জিয়াউদ্দিন পল্টু, মাহমুদ আলম খান ও শ্রমিক নেতা মো: আশরাফ হোসেন। জেলা কমিটিতে শেখ রাজ্জাক আলীকে সভাপতি ও গাজী আব্দুল বারীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়। নগর শাখায় এ্যাড এম মুনসুর আলী সভাপতি ও কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। তাদের নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি খুলনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে।
খুলনা গেজেট/এনএম

