সংগ্রাম, সত্য ও সাফল্যের এক বছর দ্বিতীয় বর্ষে ‘দৈনিক খুলনা গেজেট’

মিজানুর রহমান মিলটন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গণমানুষের সুখ-দুঃখের কথা বলতে, উপকূলীয় রূপসা-ভৈরব তীরের অবিরাম জীবনসংগ্রামের বিশ্বস্ত প্রতিচ্ছবি হিসেবে পরম মমতায় যাত্রা শুরু করেছিল ‘দৈনিক খুলনা গেজেট’। দেখতে দেখতে একটি বছর অতিক্রম করে পত্রিকাটি আজ সাফল্যের সাথে দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করল। এই এক বছরের পথচলা কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানোর হিসাব নয়; এটি হলো চরম অনিশ্চয়তা, দিন-রাত এক করা অক্লান্ত শ্রম, পরম নিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের নিখাদ আস্থার এক মহাকাব্যিক উপাখ্যান।

সংবাদপত্রের এই চরম প্রতিযোগিতামূলক যুগে একটি নতুন পত্রিকার টিকে থাকা এবং খুব অল্প সময়ে পাঠকহৃদয়ে স্বতন্ত্র স্থান করে নেওয়া মোটেই সহজ কথা নয়। তবে ‘দৈনিক খুলনা গেজেট’ তার যাত্রা লগ্ন থেকেই সত্য প্রকাশে কোনো আপোশ করেনি। বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারিত্বের যে প্রদীপ্ত শিখা তারা জ্বেলেছে, তা সংবাদপত্র জগতে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেহনতি মানুষের কান্না, উপকূলের ঝড়-ঝাপটার ক্ষত, খুলনার উদীয়মান অর্থনীতি, কৃষি, বিকাশমান শিল্প-বাণিজ্য কিংবা খুলনা প্রেস ক্লাবের বিভিন্ন গতিশীল উদ্যোগকে যেভাবে আবেগ ও তথ্যের সমন্বয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে-তা খুলনা গেজেটকে রূপ দিয়েছে খুলনাবাসীর নিজস্ব আয়না বা আত্মপরিচয়ের দর্পণে।

একটি সংবাদপত্র কখনোই একা চলতে পারে না; তার আত্মায় থাকে কিছু অন্তরালের নায়ক। দৈনিক খুলনা গেজেটের এই সাফল্যের কথা বলতে গেলে যার নাম না বললেই নয়-তিনি সংবাদপত্রের আলোকবর্তিকা, পরম শ্রদ্ধেয় গাজী আলাউদ্দিন ভাই। নিঃশ্বাসের মতো পত্রিকাটিকে যিনি ভালোবেসেছেন, রক্তকে ঘাম বানিয়ে নিজের সর্বস্ব দিয়ে যিনি এর ভীত তৈরি করেছেন। গাজী আলাউদ্দিন ভাই কেবল একজন পেশাদার সাংবাদিক নন, খুলনা গেজেটের আত্মা ও জীবনীশক্তি। তাঁর অসীম সাহসিকতা, দিকনির্দেশনা ও দিকবিদিক শূন্য ত্যাগ ছাড়া এই পত্রিকাটির পক্ষে আজকের এই মহীরুহে রূপ নেওয়া হয়তো কখনোই সম্ভব হতো না। তাঁর মতো একনিষ্ঠ মানুষের আত্মত্যাগেই আজ খুলনা গেজেট মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

পত্রিকাটির পেছনে আরও যারা প্রদীপের মতো আলো জ্বালিয়ে রেখেছেন, তারা হলেন এর তরুণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকবৃন্দ। ঝড়-বৃষ্টি, রোদ-ঝড় কিংবা যে-কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সংবাদের সন্ধানে ছুটে গেছেন, দিনশেষে নিখুঁত সংবাদের জন্ম দিয়েছেন-সেইসব কলমযোদ্ধাদের প্রতি সালাম। সম্পাদকীয় পর্ষদ থেকে শুরু করে বার্তাকক্ষ, জেলা-উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিনিধি, কিংবা প্রেসের টেকনিশিয়ান ও ভোরে পত্রিকা পৌঁছে দেওয়া হকার ভাইদের অবিরাম পরিশ্রমেই খুলনা গেজেট আজ প্রতিটি পাঠকের কাছে প্রিয় এক প্রাতঃকালীন নাম।

বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তির দাপুটে যুগে প্রিন্ট ও ডিজিটাল-উভয় মাধ্যমেই খুলনা গেজেটের সরব উপস্থিতি আমাদের মুগ্ধ করে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, রাজনীতি, কৃষ্টি-সংস্কৃতি কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতায় দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশগত সংকটের বস্তুনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরে পত্রিকাটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে। কোনো রাজনৈতিক রক্তচক্ষু বা কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কাছে মাথা নত না করে সত্যের পক্ষে অটল থাকার যে দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করেছে, তা সত্য অর্থেই সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জয়গান গায়।

দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের পক্ষ থেকে এবং ‘দৈনিক খুলনাঞ্চল’ পরিবারের পক্ষ থেকে ‘দৈনিক খুলনা গেজেট’-এর সম্পাদক, প্রকাশক, অভিভাবকসম গাজী আলাউদ্দিন ভাই, প্রিয় সাংবাদিক সহকর্মীবৃন্দ, সুধী পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আমার হৃদয়ের গভীরতম শ্রদ্ধা ও সশ্রদ্ধ অভিনন্দন। খুলনা গেজেটের হাত ধরে আমাদের প্রিয় রূপসা তীরের সমৃদ্ধি ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার স্নিগ্ধ সুবাতাস ছড়িয়ে পড়ুক পুরো বাংলাদেশজুড়ে। আলো ছড়ানোর এই পথচলা চির অম্লান হোক, হাজার বছর ধরে বেঁচে থাকুক গণমানুষের ‘দৈনিক খুলনা গেজেট’।

(লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক খুলনাঞ্চল)

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন