গণ অভ্যুত্থানে খুলনা গেজেট

কাজী মোতাহার রহমান

চব্বিশ সাল। অর্ধেক সময়টা স্বৈরশাসকের দাপট। এ সময় সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২২, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৮ ধারা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল সোচ্চার। মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো এ আইন মেনে নিতে পারছিলেন না। এ আইনের বেশিরভাগ ধারা ছিল অজামিনযোগ্য। যা গণতন্ত্রের পরিপন্থি। অনেক ধারায় ৫ বছরের শাস্তি ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এমন একটি কালো আইন মাথায় নিয়ে জুলাই-আগস্টে খুলনা গেজেট সোচ্চার ছিল। এ সময়টা উত্তাল বাংলাদেশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে দলমত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতা রাজপথে। বইখাতা ছেড়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে ছাত্রদের কণ্ঠে গগণ বিদারী স্লোগান ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’। খুবি, কুয়েট, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বিএল কলেজ, কেপিআই, সিটি, সুন্দরবন, আযম খান, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসীন কলেজ, সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়, পাইওনিয়ার মহিলা কলেজ, করোনেশন, সেন্ট যোসেফস, জিলা, বি কে ইউনিয়ন, ইকবালনগরের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থা। থানা ছেড়ে পুলিশ শিববাড়ি, জিরোপয়েন্ট, নতুন রাস্তা, গল্লামারী, সাচিবুনিয়া ও ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থান করে।

দলমতের বাইরে থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা এক কাতারে। দাবি কোটা বৈষম্যের অবসান। মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পারেনি। সর্বত্র ছিল দলীয়করণ। এর বিরুদ্ধে মানুষ ফুঁসে ওঠে। শ্রমজীবী মানুষ সম্পৃক্ত হয় বৈষম্যবিরোধী মিছিলে। ছাত্রদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ স্লোগান দেয় দিনভর। চব্বিশের জুলাইয়ের প্রথমার্ধ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা গেজেট ছাত্র সমাজের কর্মসূচি ফলাও করে প্রচার করে। তখন আমাদের পত্রিকাটি ছিল অনলাইনে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। বিশেষ করে ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আত্মপ্রকাশ, ৮ জুলাই ক্লাস বর্জন, ছাত্র ধর্মঘট, ৯ জুলাই বাংলা ব্লকেড, ১৫ জুলাই মধ্যরাতে উত্তাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৭ জুলাই কমপ্লিট শাটডাউন, নিহতদের স্মরণে খুবিতে গায়েবানা জানাজা, ১৮ জুলাই ইন্টারনেট ফোর জি সেবা বন্ধ, ৩১ জুলাই ছাত্রদের ছাড়িয়ে নিতে খুবি’র শিক্ষকরা, ১ আগস্ট খুবিতে শিক্ষকদের নীরব মিছিল, ২ আগস্ট খুলনায় পুলিশ সদস্য নিহত, গণ মিছিলে পুলিশের টেয়ারসেল, ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও শেখবাড়িতে আগুন, ৫ আগস্ট খুলনার সড়কে হাজারও মানুষের বিজয় উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ শিরোনামে সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে দেশি-বিদেশি পাঠকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

খুলনা গেজেটের সচিত্র প্রতিবেদন প্রতিঘণ্টায় আন্দোলনকারীদের হাতে পৌঁছায়। আমাদের পোর্টালের প্রতিবেদনগুলো আন্দোলনের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। ছাত্র আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জোগায়। স্থানীয় দৈনিকগুলো সহযোগিতা পায়। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রতিবেদন তৈরিতে ত্যাগ ও শ্রম ব্যয় করেন এ প্রতিষ্ঠানের সংবাদকর্মী মোহাম্মদ মিলন, বশির হোসেন, এমএম সাদী ও আয়শা আক্তার জ্যোতি। এ গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে খুলনা গেজেটের ভূমিকা সকল মহলে প্রশংসিত হয়। ইতিহাসের পাতায় উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে নেয় আমাদের প্রিয় নিউজ পোর্টালটি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন