ডুমুরিয়ায় দুটি খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ

সমালোচনার মুখে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ফেরত!

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় খাল খনন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষ করে শ্রমিক দিয়ে খনন না করে ভেকু ব্যবহার, খননের মাটি পাড়ে রেখে বৃষ্টিতে আবার নদীতে পড়া এবং অপরিকল্পিতভাবে পাঁচ হাজার বৃক্ষরোপণ করে ভুয়া বিল তোলার অভিযোগ ছিল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বৃষ্টির মধ্যে খাল খননের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর খনন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। এর আগেই দুই ঠিকাদারকে এক কোটি ৭২ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়।

গত ২০ জুন থেকে খননের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছিল ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের একটি চক্র। বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় সম্প্রতি সেই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় দুটি খাল খননের জন্য তিন কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় ত্রাণ মন্ত্রণালয়। উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা দক্ষিণ পার্শ্ব আশি ফুট পর্যন্ত একটি এবং সাহস ইউনিয়নের ডোলভাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানে হয়ে তেলিখালি গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত দু’টি খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয় গত এপ্রিলে মাসে।

খাল দুটির সংযোগ নদীর বুক ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই খননের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তখনই প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু তারপরও খনন অব্যাহত রাখে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। শ্রমিক দিয়ে খাল খনন করার কথা হলেও ব্যবহার করা হয় ভেকু। অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প হওয়ায় শুরু থেকেই এই খনন নিয়ে সমালোচনা চলছিল। ত্রাণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও খনন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, সাহস ইউনিয়নের ডোলভাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানে হয়ে ভদ্রা নদী পর্যন্ত প্রকল্পের ভদ্রা নদীর নষ্ট হয়ে যাওয়া স্লুইজ গেটের সামনে মাটির হদিস পাওয়া যায়নি। সেখানে নামমাত্র একটি বেড়িবাঁধ দেওয়া হযেছে। যার দক্ষিণ পাশেও পানি রয়েছে। এর মাঝখানে গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। প্রায় সব চারাই এখন পানির নিচে চলে গেছে। এছাড়া বিলডাকাতিয়ায় খনন করা খালের পাড়ে দেয়া মাটির অধিকাংশ স্থানে অস্তিত্ব নেই।

স্থানীয়রা জানান, ডুমুরিয়া-ফুলতলা এলাকার সবচেযে বড় সমস্যা বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে ‘কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিলডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন’ প্রকল্প নেওয়া হয়। এজন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। অর্ধেক কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে প্রকল্পের ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদার। অথচ এই খননের নূন্যতম সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এই খনন কাজ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

সূত্রটি জানায়, কাজের মান নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়ায় খনন প্রকল্প দুটিতে অর্ধেক বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা তহবিলে জমা ছিল। উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একটি প্রভাবশালী চক্র খনন শতভাগ হয়েছে দেখিয়ে এই অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে জরুরিভাবে অব্যয়িত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দুটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, যেটুকু কাজ হয়েছে পরিমাপ করে ততোটুকুর বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বর্ষা থাকায় কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। যেহেতু কাজ এখন বন্ধ অব্যয়িত টাকা সরকারকে ফেরত দেওয়াই যুক্তিযুক্ত ছিল। সেটাই করা হয়েছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন