নারায়ণগঞ্জের বন্দরে রিকশা গ্যারেজ মালিক ও ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে মদনপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা চলে এই কর্মসূচি। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এরআগে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ৪৫ বছর বয়সি বুলবুল ওই এলাকায় রিকশার গ্যারেজ চালাতেন। তিনি ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার বাড়ি সালেহনগর শাহী মসজিদ এলাকায়। তিনি রাজা মাস্টারের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে পেয়ে শেখ সিফাত ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি পরে মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের কথিত নেতা শেখ সিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মাছুম বিল্লাহর অভিযোগ, ওই মামলা নিয়ে বুলবুলের সঙ্গে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের ওপর হামলা চালানো হয়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তারা মহাসড়ক থেকে সরবেন না।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। এক ঘণ্টা পর তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, বিক্ষোভকারীরা প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে অবস্থান করেছিলেন। তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সিফাতকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

