খুলনায় ভয়াবহ রূপে ডেঙ্গু, বাড়ছে রোগীর চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। ফলে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগে নতুন করে আরও ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন ভর্তি ৭৫ জন রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৫৩ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২২ জন ভর্তি হয়েছেন। মৃত ২ জনই খুলনা জেলার বাসিন্দা।

জেলাভিত্তিক নতুন ভর্তির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ৪০ জন এবং বাগেরহাটে ২৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া নড়াইলে ৪ জন, মেহেরপুরে ২ জন এবং কুষ্টিয়ায় ১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ৩ হাজার ১৯১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৭৭৭ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া এ পর্যন্ত অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে ৩৭ জনকে। চলতি বছর বিভাগে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। এর মধ্যে ৯ জন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও খুলনা জেলায় ২ জন মৃত্যু হয়। এছাড়া বাগেরহাটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, গত জুলাই থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল। আগস্টের শুরু থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে। সরকারি হিসাবে, গত শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি।

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম গাজী জানান, হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের দুটি ওয়ার্ডে শয্যা ২৫টি। সেখানে শুধু ডেঙ্গু রোগীই ভর্তি হয়েছেন ৬১ জন। হাসপাতালের ১১০টি শয্যার বিপরীতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৬২ জন। জায়গা না থাকায় অনেককে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা ৮০ ভাগই জ্বর নিয়ে আসছেন। ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট ও চিকিৎসা সামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত আছে। যারা আসছেন, তারা সবাই চিকিৎসা পাচ্ছেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডে শয্যা ৪০টি। গতকাল সেখানে শুধু ডেঙ্গু রোগীই ছিলেন ১১৩ জন। জায়গা না থাকায় পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ডেও রোগী রাখা হচ্ছে। হাসপাতালের বারান্দা, মেঝেতেও রোগী রাখা হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান জানান, রোগী বেশি হলেও চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। ওষুধ, কিট পর্যাপ্ত। রোগীর চাপ আরও বাড়লে নিচতলায় জরুরি বিভাগে পৃথক ইউনিট খোলার প্রস্তুতি আছে।

সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোস্তফা কামাল জানান, ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ১৫টি শয্যার সব পূর্ণ। রোগীর চাপ বাড়ায় ১৯টি কেবিনে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করা হয়েছে। এরপর শয্যা খালি না থাকায় প্রায় ১০ জন ফিরে গেছেন।

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোকাররম বিল্লাহ আনসারী জানান, শয্যা খালি থাকলে কোনো রোগীই ফেরত দেওয়া হয় না। কিন্তু শয্যা ফাঁকা না হওয়ায় অনেক রোগী ফেরত যাচ্ছেন।

এদিকে গতকাল শুক্রবার কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে নগরীর মিউনিসিপ্যাল ট্যাঙ্ক রোড সংলগ্ন এলাকা এবং রূপসা নতুন বাজার চর কলোনীতে চলমান ক্রাশ প্রোগ্রাম কর্মসূচি পরিদর্শন করেন।

কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে আমরা আঁতকে উঠেছি। মেডিকেল কলেজ ছাড়া কোনো হাসপাতালে শয্যা ফাঁকা নেই। এডিস মশার লার্ভা বা প্রজনন স্থল ধ্বংস করতে হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি। এই কাজে আমরা নগরবাসী ও সরকারের সহযোগিতা চাই।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন