আজ খালেদা জিয়ার জন্মদিনে সারাদেশে বিএনপি’র কর্মসূচি

গেজেট প্রতিবেদন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আজ ১৫ আগস্ট ঢাকাসহ দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

সারাদেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন বেলা ১১টায় রাজধানী ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শনিবার ১৫ আগস্ট ‘গণতন্ত্রের মা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার বেলা ১১ টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার জন্ম অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে। তিনি ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম- খালেদা খানম। তবে তার ডাক নাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও তিনি জলপাইগুড়িতে বোনের বাসা থেকে পড়ালেখা করেন। পরে সেখানে চা ব্যবসায় জড়ান ইস্কান্দার। তিনি বিয়েও করেন তিস্তা পাড়ের শহরটিতে।

পরে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেখানে মিশনারি স্কুলে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরানোর পর দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন খালেদা। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদার বিয়ে হয়। পরে স্বামীর কর্মস্থল পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপি’র হাল ধরেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া, তখন তিনি নিতান্তই একজন গৃহবধূ।

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনে এরশাদ সরকারের সঙ্গে কখনো আপস করেননি খালেদা। অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতা করলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি কোনো সমঝোতায় যায়নি। তাই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার নাম হয় আপসহীন নেত্রী। পরে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। এরএর ১৯৯৬ সালে এবং ২০২১ সালে জাতীয় নির্বাচনেও জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান।

বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপি’র চেয়ারপারসন ছিলেন। তিনি আওয়ামী সরকারের আমলে কারাবন্দি হলে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। বর্তমানে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন