ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থাপিত ২৭টি সেচ স্কিম বন্ধ হয়ে পড়েছে। ২৫ লাখ ১৮ হাজার ২০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না হওয়ায় এসব স্কিমের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে পল্লি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। ফলে বর্ষা মৌসুমে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, সেচ স্কিমগুলো বন্ধ থাকায় ডুমুরিয়া সদর, গোলনা, রানাই, খর্নিয়া, মধুগ্রাম বিল, বিলতাওলিয়া, রুদাঘরা, দহকুলা, বিল বরুনা, কাটিংগা, ছালাতিয়া, চেচুড়ী, আচাদহ ও মান্দ্রা বিল এলাকার পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে কৃষিজমি ও মৎস্য ঘেরগুলো চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
সিংগা বিলের কৃষক তানভীর জানায়, “সম্প্রতি হরি নদী খনন হলেও পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এদিকে সেচ পাম্প গুলো বন্ধ রয়েছে। এতে ঘের তলিয়ে যাচ্ছে।”
ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, “আমাদের এলাকার সব সেচ স্কিম বিদ্যুৎ বকেয়ার কারণে বন্ধ রয়েছে। গত বছর বর্ষা মৌসুমে পাম্পগুলো সচল থাকায় জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু এবার পাম্প বন্ধ থাকায় পানি দ্রুত জমতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মৎস্যঘের প্লাবিত হয়েছে।
ডুমুরিয়া পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সঞ্জয় রায় জানান, গত দুই অর্থবছরে বকেয়া বিল নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছিল। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিদ্যুৎ বিলের কোনো অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, “আগের বছরগুলোতে যে পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছিল, বর্তমানে সেই সুযোগ নেই। ফলে উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকেও এ অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালে অতিবৃষ্টির কারণে ডুমুরিয়া উপজেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পর পানি নিষ্কাশনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় সেচ স্কিম স্থাপন করা হয়। শুরুতে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ নিয়ে জটিলতা থাকলেও পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তা সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরে অর্থ সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় বিল পরিশোধ না হওয়ায় আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম।
খুলনা গেজেট/এনএম

