ফিলিস্তিনিদের কবরে তাণ্ডব চালাল ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরের তাল গ্রামের কাছে একটি মিছিল চলাকালে ফিলিস্তিনিদের একটি কবরস্থানে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা।

তাণ্ডব চালিয়ে তারা মৃত ফিলিস্তিনিদের ওপর তৈরি স্মৃতিফলক ও পাথরের কাঠামো ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওই মিছিলে সরাসরি সুরক্ষা দিচ্ছিল ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডবের প্রতিবাদ করতে গেলে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ইসরাইলি সেনারা।

এছাড়া, ফিলিস্তিনিদের ১২০ বছরের পুরোনো একটি বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। ধ্বংস করা এই বাড়ি ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা (নাকবা) দেওয়ার অন্তত ৪০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, তাদের নিজস্ব মাতৃভূমিতে ফিলিস্তিনি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাচীন সংস্কৃতি পুরোপুরি মুছে ফেলার একটি ত্বরান্বিত ও পরিকল্পিত প্রচারণার অংশ হিসেবে এই প্রাচীন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এজে প্লাসের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ঐতিহাসিক এই নিদর্শনের ওপর ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞের কথা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে, গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় অস্ত্র সমর্পণে রাজি হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপত্যকাজুড়ে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এই হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মধ্য গাজার সালাহ আল-দিন সড়কে পরিচালিত একটি ইসরাইলি বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

অন্যদিকে, পৃথক আরেকটি হামলায় গাজা শহরের সাবরা এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরো এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকেরা।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার ইসরাইলি পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় বসতি স্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়্যির গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় তাদের ছোড়া গুলি ১০ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি শিশুর শরীরে বিদ্ধ হলে সে গুরুতর আহত হয়।

ওয়াফার অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবলুসের দক্ষিণে খাওয়ার্তা তল্লাশি চৌকির কাছে এক ফিলিস্তিনি পুরুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

নাবলুসে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবাকেন্দ্রের পরিচালক আমজাদ আহমেদ জানান, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আহত ২২ বছর বয়সি এক যুবককে তাদের উদ্ধারকারী দল প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেছে।

গত সপ্তাহে নাবলুসের কাছে অবস্থিত টেল গ্রামে বসতি স্থাপনকারীদের এক রক্তক্ষয়ী হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি ও দুজন ইসরাইলি নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই রাতভর অভিযান ও গ্রেপ্তার চালাচ্ছ ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।

অন্যদিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। জরুরি উদ্ধার পরিষেবার এক সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজা শহরের সাবরা এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় অন্তত এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এর আগে মধ্য গাজার সালাহ আল-দিন সড়কে পরিচালিত অপর একটি পৃথক বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করেছেন আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন