কাশ্মীরে জঙ্গি হানা, দুই পরিযায়ী শ্রমিক নিহত

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন, কলকাতা

কাশ্মীরের কুলগাম জেলার কেল্লাম এলাকায় জঙ্গি হামলায় দুই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে দুই শ্রমিককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় জঙ্গিরা। হামলার পর গোটা এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তাবাহিনী।

নিহত দুই শ্রমিক হলেন- ছত্তীশগড়ের বাসিন্দা দীপক রাত্রায় ও ভূপেন্দ্র কুমার ৷

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সন্ধ্যায় ৷ দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামের কেলাম এলাকার একটি ইটের খাদানে হামলা চালায় জঙ্গিরা ৷ তাতে প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকজন আহত হয় ৷ এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই দীপকের প্রাণ যায় ৷ কিন্তু ভুপিন্দরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সুয়োগ পাওয়া গেলেও শেষ রক্ষা হল না ৷ প্রথমে তাঁকে অনন্তনাগের জিএমসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ কিন্তু শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকায় নিয়ে যাওয়া হয় সৌরার একটি হাসপাতালে ৷ সেখানেই তিনি প্রয়াত হন ৷ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন ৷ তাঁদের চিকিৎসা চলছে ৷ এই ঘটনার ঠিক দশদিন আগে আরও একবার রক্তে রাঙা হয়েছিল উপত্যকার মাটি ৷ সেই ঘটনাটি ঘটেছিল অনন্তনাগে ৷ জঙ্গিদের হানায় প্রাণ যায় এক পুলিশ কর্মীর ৷ এবার নিশনায় পরিযাযী শ্রমিকরা ৷

কাশ্মীরে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রাণ যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম ঘটল তেমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই ৷ এরা আগে ২০২৪ সালে এই ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে ৷ সে বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৭ তারিখ জম্মুতে হত্যা করা হয় পঞ্জাবের দুই শ্রমিককে ৷ বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ মনে করে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতেই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশনা করা হয় ৷ জঙ্গিদের একটাই লক্ষ্য যেভাবে সম্ভব উপত্যকার অর্থনীতিতে আঘাত হানা ৷ সেই কারণেই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করা হয় ৷ যাতে প্রাণ ভয়ে তাঁরা কাশ্মীরে আসা বন্ধ করে দেন ৷ আর তার প্রভাব সরাসরি অর্থনীতির উপর পড়ে ৷ অর্থনীতিকে আঘাত হানা গেল কর্মসংস্থান ধাক্কা খাবে ৷ সমাজের মূলস্রোতে রোজগারের সুযোগ সেভাবে না পেলে তাঁদের ভুল বুঝিয়ে দলে টানতে পারবে জঙ্গিরা ৷ এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গত কয়েক বছরে আলাদা আলাদা আক্রমণে প্রাণ গিয়েছে বেশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিকের ৷

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন