ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের প্রক্রিয়া আগের চেয়ে খানিকটা জটিল হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের চারটি দেশ- ইরান, বলিভিয়া, কেপ ভার্দে এবং নিকারাগুয়া- ভারতীয়দের জন্য তাদের অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে এসব দেশে আর সহজে ‘অন-অ্যারাইভাল’ বা ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাচ্ছেন না ভারতীয় পর্যটকেরা। খবর এনডিটিভি।
পাসপোর্ট র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়েছে ভারত
আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট সূচক সংস্থা ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পাসপোর্টের অবস্থানের অবনতি ঘটেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সংস্করণে ভারতের অবস্থান ৭৫তম থাকলেও বর্তমানে তা নেমে ৮১তম স্থানে পৌঁছেছে। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিকেরা বিশ্বের ৫৫টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পাচ্ছেন, যা গত বছর ছিল ৫৭টি।
নীতিমালায় যে চার দেশ পরিবর্তন এনেছে:
ইরান: মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই গন্তব্যে এতদিন ভারতীয়রা পূর্ব-অনুমোদন বা ভিসা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারতেন। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে সাধারণ ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা ছাড় বা মওকুফ সুবিধা স্থগিত করে ইরান।
বলিভিয়া: লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়া অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা বন্ধ করে সম্পূর্ণ ‘ই-ভিসা’ ব্যবস্থা চালু করেছে। এখন থেকে ভ্রমণের পূর্বে অনলাইনে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে অনুমোদন পাওয়ার পর তবেই যাত্রা করা যাবে।
কেপ ভার্দে: দ্বীপাঞ্চলীয় দেশ কেপ ভার্দে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভারতসহ ৯৬টি দেশের জন্য অন-অ্যারাইভাল সুবিধা বাতিল করেছে। পূর্বে অনলাইনে প্ল্যাটফর্মে ফি দিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিসা পাওয়া গেলেও, বর্তমানে বৈধ ভিসা ছাড়া দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিকারাগুয়া: ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর করেছে নিকারাগুয়া। ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের ‘ক্যাটাগরি সি’ বা কনসালটেড ভিসা তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ফ্লাইটে ওঠার আগেই নিকারাগুয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।
ভ্রমণকারীদের জন্য বার্তা
পর্যটন ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রেশন নীতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ভ্রমণের ঠিক পূর্বে হালনাগাদ ভিসা নীতিমালা যাচাই করে নেয়া জরুরি।
খুলনা গেজেট/এএজে

