আসামে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৬১, বানভাসি ১১ লাখ মানুষ

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন, কলকাতা

উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান রাজ্য আসামে বন্যায় মৃত বেড়ে ৬১। প্রায় ১১ লাখ মানুষ বানভাসি। তাদের অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে খোদ‌ সরকারিভাবেই জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির আশ্বাসে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

ঐ সরকারি সূত্রটি আরো দাবি করেছে যে, ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে পৌঁছেছে। শুধু শুক্রবার (২৪ জুলাই) একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীও সহায়তা করছে।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (২৫ জুলাই) আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং চলমান ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, বন্যার কারণে রাজ্যের ২ হাজারের বেশি গ্রামের ১১ লাখেরও বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মন্ত্রীরা সরাসরি ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। বর্তমানে ১৬২টি ত্রাণশিবিরে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কোনো ফাঁক না থাকে।

মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, শুক্রবার চরাইদেও জেলায় ৭ জন, শিবসাগরে ৬ জন এবং জোরহাটে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে শিবসাগরে প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত অবস্থায় রয়েছেন। চরাইদেওতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার এবং জোরহাটে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ।

গত ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হওয়ায় প্রধান নদীগুলোর পানি নামতে শুরু করেছে। তবে গোলাঘাট, চরাইদেও, ডিব্রুগড়, হোজাই, নগাঁও, বিশ্বনাথ, জোরহাট, ধেমাজি, শিবসাগর, সোনিতপুর, কামরূপ (মেট্রো) ও কারবি আংলংসহ মোট ১২টি জেলা এখনও বন্যার কবলে রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্গতদের সহায়তায় রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ১১১ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে। এ পর্যন্ত ১৪ হাজার কুইন্টালের বেশি চাল, ২ হাজার কুইন্টাল ডাল এবং ৫৮ হাজার ৮২০ লিটার সরিষার তেলসহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভ্রাম্যমাণ দল দুর্গত এলাকায় কাজ করছে। বন্যা-পরবর্তী রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও গবাদিপশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, উত্তর আসামের পাশাপাশি গুয়াহাটি শহরও জলাবদ্ধতায় ভুগছে। এএসডিএমএর তথ্য অনুযায়ী, শহরের ১০টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আসামের নগর উন্নয়নমন্ত্রী কৌশিক রায় গুয়াহাটির জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করে সিটি করপোরেশন, সড়ক বিভাগ ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নালা পরিষ্কার এবং পলি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এবং বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা তৈরিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন