১১ জুলাই ২০২৪। সরকারি চাকরির নিয়োগে কোটা পদ্ধতি বাতিল এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয় কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এর আগে সরকারি চাকরির সব গ্রেড থেকে কোটা বাতিল করার এক দফা দাবিতে পূর্ব ঘোষিত ‘বাংলা ব্লকে’।
এ সময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়- ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘ভয় দেখিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘দফা এক দাবি এক, কোটা নট কাম ব্যাক’, ‘সংবিধানের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’ এমন স্লোগান দিতে শোনা যায়।
কোটা পদ্ধতি বাতিলের পরিপত্র ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ আদেশের ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র বহাল থাকে। এ রায় দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি। চার সপ্তাহ পর এ বিষয়ে ফের শুনানি হবে।
শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ৯ জুলাই হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে দু’শিক্ষার্থী আবেদন করেন। আমাদের রাষ্ট্রপক্ষেরও একটি আবেদন আবেদন রয়েছে। দুটি আবেদন একসঙ্গে সাড়ে ১১টায় শুনানি হলে ভালো হয়। তখন আপিল বিভাগ শুনানির জন্য বেলা সাড়ে ১১টার সময় নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ৪ জুলাই সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখে আপিল বিভাগ। সেদিন আপিল বিভাগ রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি করেননি, ‘নট টুডে’ বলে আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে। গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
খুবি শিক্ষার্থীদের জিরো পয়েন্ট অবরোধ : কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বৃষ্টির মধ্যে নগরীর জিরো পয়েন্টে অবরোধ করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে ৪টায় শিক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্টের চারিদিকের সড়ক অবরোধ করে। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ‘একাত্তরের পথ ধর, বাংলা ব্লকেড সফল কর’, ‘ব্লকেড ব্লকেড, বাংলা ব্লকেড’, ‘দফা এক দাবি এক, কোটা নট কাম ব্যাক’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ, রাজপথ’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।
খুবি শিক্ষার্থী সাইফ নেওয়াজ এ সমাবেশে বলেন, ‘মেধাবীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আমরা অংশগ্রহণ করেছি। কোটা বৈষম্যের কারণে মেধাবীদের জন্য সব রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমরা মেধাবী দিয়ে পরিচালিত একটি স্মার্ট বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
নিহতদের স্মরণে খুবিতে গায়েবানা জানাজা : কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষে নিহতদের স্মরণে খুবিতে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় তোরণের (প্রধান ফটক) এর সামনে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
এসময় খুবির শিক্ষার্থীরা ছাড়াও কুয়েট, বিএল কলেজ, নর্দান ইউনিভার্সিটি, নর্থ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
বিএনপি’র ৬ নেতাকর্মী আটক : নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসতিয়াক আহম্মেদ ইস্তিসহ ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটক অন্যরা হলেন ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সোহেল বাসার, ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হাওলাদার, যোগীপোল ইউনিয়ন যুবদল নেতা রাজু হোসেন রানা, ছাত্রদল কর্মী জিল্লুর রহমান ও দৌলতপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সেলিম মল্লিক। পুরাতন একটি মামলায় পরোয়ানা থাকায় ইস্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সহিংসতামুক্ত শিক্ষাঙ্গণের দাবি গণমাধ্যমের একাংশের। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সহিংসতামুক্ত শিক্ষাজন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মান সমুন্নত রাখার দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন করেছে সাংবাদিকরা। নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে খুলনা স্বাধীনতা সাংবাদিক ফোরাম, খুলনা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটি ও খুলনা টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন সংহতি প্রকাশ করে (খুলনা গেজেট ১৭ জুলাই)।
এ উপলক্ষে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাট। প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি’র সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। বক্তৃতা করেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারী, অধ্যাপক আলমগীর কবির, খুলনা স্বাধীনতা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রিপন, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.বি.এম মোকলেছুর রহমান বাবলু।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। কিন্তু একটি চক্র এই আন্দোলনকে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গণে সহিংসতা চালানো হচ্ছে। যেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

