সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকায় প্রায় আড়াই কিলোমিটার ইটের সলিং রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে মানিকপুর হাটখোলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থানে ইট উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই হোঁচট খেয়ে আহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ছড়িয়ে থাকা ইটের আঘাতে আহত হয়েছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরিমা জারা বলেন, “এই রাস্তায় কোনো গাড়ি চলে না হেঁটে স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়।”
ভ্যান চালক সোলায়মান আলি বলেন, “খারাপ রাস্তার কারণে ভ্যান বাড়িতে আনতে পারি না। অন্যের বাড়িতে টাকার বিনিময়ে ভ্যান রাখতে হয় এবং চার্জ দিতে হয়।”
অন্যদিকে, এই সড়কের দু’পাশে অসংখ্য মৎস্য ঘের থাকায় মাছ পরিবহণেও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঘের মালিক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদিত মাছ ইউনিয়ন কেন্দ্রিক মৎস্য আড়তে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় মৎস্যচাষিরা। এছাড়া কোনো ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোও অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জরুরি রোগী পরিবহনে প্রায়ই বিলম্ব হচ্ছে, যা অনেক সময় রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে নুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘রাস্তাটি আগে সম্পূর্ণ মাটির ছিল। ২০১৬ সালে এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৫৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ভারী যানবাহন চলাচল ও সংস্কারের অভাবে বর্তমানে সড়কটি বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘রাস্তাটি সংস্কারে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুত প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। এরপর এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নতুন করে সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’
এদিকে দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
খুলনা গেজেট/এনএম

