মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দ্রুত সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়া হলেও ইরানি সংবাদমাধ্যম বলছে ভিন্ন কথা।
কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরানে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং ট্রাম্প যে সময়সীমার কথা বলেছেন, তার মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলে জানিয়েছে আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে না এনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও চুক্তির পথে এগোনো বড় ভুল হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইরান।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইরানি কর্মকর্তারা এখনও আলোচনা করছেন বলে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন ধারা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং ‘ট্রাম্প যে সময়ের কথা বলেছেন, সেই সময়ের মধ্যে কোনও চুক্তি নিশ্চিতভাবে স্বাক্ষরিত হবে না’ বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার আগেই ফার্সের কাছে এসব মন্তব্য করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও চুক্তির বিষয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘হিসাব-নিকাশে ভুল করা উচিত হবে না। আপনি যদি সমঝোতা বা চুক্তি করতে চানও, তার পথ হলো আগে জায়নবাদী শাসনকে নিয়ন্ত্রণে আনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই উন্মত্ত কুকুরকে নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে, যে চুক্তির কালি এখনও শুকায়নি, সেটিই শেষ পর্যন্ত আমাদের ক্ষতির কারণ হবে।’
মূলত ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে না এনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো হলে তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। এমনটাই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে রেজাইয়ের বক্তব্যে।
খুলনা গেজেট/এএজে

