মঙ্গলবার । ৯ই জুন, ২০২৬ । ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ঝিকরগাছায় মা-শিশুর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

গেজেট প্রতিবেদন

যশোরের ঝিকরগাছায় মা ও শিশু পুত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শরীফপুর গ্রাম থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নারীর পরিবারের দাবি, তাদের হত্যা করেছেন স্বামী জনি।

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের জনি হোসেনের স্ত্রী রেবেকা খাতুন (২৬) ও তার শিশুপুত্র সৌরভ (দেড় বছর)। রেবেকার বাবার বাড়ি শার্শার উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে।

এ ঘটনায় জনিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তিনি শরীফপুর পশ্চিমপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, জনি মাদকাসক্ত। বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য রেবেকাকে চাপ দিতেন। মঙ্গলবার সকালে জনির পরিবারের সদস্যদের খবরে তাদের বাড়িতে গিয়ে মরদেহ দুটি পাওয়া যায়।

রেবেকার বোন সাফিয়া খাতুন ও ভাবি সাবিহা বেগম জানান, জনি শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীর প্রাপ্য দেড় বিঘা জমি বিক্রির ৩০ লাখ টাকা নষ্ট করেছে। আরও জমি বিক্রি করে টাকা দিতে স্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী রেবেকা ও সন্তান সৌরভকে হত্যা করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাভারণ ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য বলেন, বিষয়টি হৃদয়বিদরক। জনি এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। তিনি বেকার ছিলেন। তবে মাদকের কারবার করতেন।

রেবেকার খালাতো ভাই রবিউল হোসেন জানান, জনি প্রথমে আমার বোনকে হত্যা করে। সেই ঘটনা ছেলে দেখে ফেলায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে রেবেকার মরদেহের ওপর লাথি মেরেছে জনির বাবা। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

অভিযুক্ত জনি বলেন, শ্বশুরবাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে টাকা এনেছি এ কথা সত্য। তবে আমার স্ত্রী টাকা নিয়ে এসেছে বাড়ি নির্মাণের জন্য। সেই টাকা ব্যাংকে রাখা আছে। আমি কারো গায়ে হাত তুলিনি। আমাকে খেতে দিয়ে মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসতে গিয়েছিল রেবেকা। পরে বাড়িতে এসে আমার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে রেবেকার ভাই-ভাবির সঙ্গে কথা বলছিল। পরে ঘরে গিয়ে সে ছেলেকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছে। কথাটি জানতে পেরে আমি হুঁশ হারিয়ে ফেলি।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। অভিযুক্ত জনি পুলিশ হেফাজতে আছে বলেও জানান তিনি।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন