৬৪ বছর বয়সী চিরকুমার সৈয়দ শাহজাহান। বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামে। ছোটোবেলা থেকে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। বয়স বৃদ্ধির সাথে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডগুলো নেশায় পরিণত হয়। পরিবেশবাদী সামাজিক সংগঠন আলোর মিছিলের উপদেষ্টা তিনি। ভালো একজন সাইক্লিলিস্টও। অদম্য ইচ্ছা শক্তি, নির্ভীক সাহস আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে খুলনা থেকে সাইকেল চালিয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ শেষে আবারও সাইকেল চালিয়ে খুলনায় এসে ইতিহাস গড়লেন।
সৈয়দ শাহজাহান খুলনা গেজেটকে বলেন, ‘সাগরকন্যা কুয়াকাটা যাওয়ার ইচ্ছা ছিল অনেক দিন থেকে। ইচ্ছাটা যে সাইকেলে চালিয়ে পূরণ হবে, কখনো ভাবিনি। প্রথমে খুলনা সাইক্লিং কমিউনিটির সাথে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা বরিশাল বিভাগ ভ্রমণ করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আমার সামর্থ্যের বাইরে ছিল। পরবর্তীতে যশোর সাইক্লিস্টদের আমন্ত্রণের সুযোগটা লুফে নিলাম।
৩০ মে সকালে বাড়ি থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে সাইকেল নিয়ে বের হই। দৌলতপুরে অপেক্ষা করি যশোর থেকে আগত সাইক্লিস্টেদের জন্য। এরপর একসঙ্গে পাঁচজন কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাগেরহাট খানজাহান আলী (রাঃ)’র মাজারে পৌঁছানোর পর আমাদের এক সাথী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার সেবা যত্নের কারণে ওইদিন রাইড স্থগিত করি। পরবর্তীতে তাকে সুস্থ করে বিকেল সাড়ে চারটায় যশোরের উদ্দেশ্যে বাসে তুলে দিয়ে বিকেল পাঁচটায় দুপুরের খাবার খেয়ে পুনরায় মূল যাত্রা শুরু করি। মাঝে কিছু পানি পান বিরতি এবং রাতের খাবার শেষে অন্ধকার ভেদ করে, চারপাশে চাঁদনী রাতের কোমল আলো আর শুনশান নিরবতা, মাঝে দু’চারটা ট্রাক আর যাত্রীবাহী বাসের শো শো শব্দে আসা যাওয়া। উঁচু, সংকীর্ণ রাস্তা, ঢালু জমিনের বুক চিরে ৫ জন ছুটে চলি। একটু অসতর্ক হলেই মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। তবে এসব নিয়ে আমরা বিচলিত ছিলাম না। ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাই, মাঠ ঘাট প্রান্তর পেরিয়ে। বড়ো বড়ো নদীর উপর নির্মিত সেতুর উপর দিয়ে সাইকেল চালিয়ে আমরা কুয়াকাটা পৌঁছায় পরদিন সকাল সাড়ে ৮ টায়। সময় লাগে ১৫ ঘণ্টার মতো।
সারাদিন বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে গেলাম সমুদ্র সৈকতে। মেরিন ড্রাইভ সড়কে দুরন্ত গতিতে সাইকেল চালিয়ে খাড়া ঢাল বেয়ে সৈকতের বালুকায় নেমে স্পীড রেস দেওয়া দেহ মন জুড়ে এক অন্য রকম উম্মাদনা সৃষ্টি হয়। মাঝেমধ্যে এদিক সেদিক একটু ঘোরাঘুরি। এভাবেই কাটলো তিনদিন। ৩ জুন সাড়ে সকাল ৬টায় খুলনার উদ্দেশে রওনা দিলাম। একের পর এক জেলা উপজেলা, সেতু পাড়ি দিয়ে পৌঁছে গেলাম পিরোজপুর। দুই সঙ্গী শশী ও তানভীর পিরোজপুরে তাদের পরিচিত জনের বাড়ি বেড়াতে গেল। আমি হয়ে গেলাম সম্পূর্ণ একা। পিরোজপুর থেকে বাগেরহাট হয়ে খুলনায় নিরাপদ এবং সুস্থ শরীরে পৌঁছালাম রাত সোয়া ৯ টায়।’
তিনি বলেন ‘পরিবেশ সুরক্ষার বাণী বুকে নিয়ে পরবর্তী স্বপ্ন এবং মিশন পঞ্চগড়।’
এ দিকে ৪ জুন আলোর মিছিলের পক্ষ থেকে সংগঠনের উপদেষ্টা সাইকিলিস্ট শাহজাহানকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আজদিকা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আনিসুর রহমান সৈয়দ শাহজাহানের হাতে “বেস্ট সাইক্লিস্ট অ্যাওয়ার্ড” তুলে দেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

