শনিবার । ২৩শে মে, ২০২৬ । ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

স্থানীয় সরকারে ১৭ বছরে দুর্নীতির অনুসন্ধানে কমিটি গঠন

গেজেট প্রতিবেদন

গত ১৭ বছরে স্থানীয় সরকারের সার্বিক কার্যক্রমে দুর্নীতি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সম্প্রতি এক অফিস আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালককে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা-১ অধিশাখা) মো. সামছুল ইসলাম।

এছাড়াও কমিটির সদস্যরা হলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (জেলা পরিষদ শাখা) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (সিটি করপোরেশন-১) মো. রবিউল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (পাস-৩) মোছা. আকতারুন নেছা, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রশাসন-১) তাহমিনা আক্তার ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (উন্নয়ন-২) এ বি এম আরিফুল ইসলাম।

কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নবগঠিত এই কমিটি জানুয়ারি, ২০০৯ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। এ ক্ষেত্রে কমিটি প্রতিবেদন প্রস্তুতকালে যথাসম্ভব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করবে। সেই সঙ্গে কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে এক সংবাদ কমিটি গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত তলে ধরেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ-দপ্তর ও সংস্থায় গত ১৭ বছরে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। শুধু পিরোজপুর জেলায় এলজিআরডির ২ হাজার ৪৬০টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছিল, এর মধ্যে ১ হাজার ৬১০টি প্রকল্পে কোনো কাজ না করে শুধু টেন্ডারের ফর্মালিটি মেইনটেইন করে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর সঙ্গে তৎকালীন স্থানীয় এমপি ছাড়াও নির্বাহী প্রকৌশলী, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, পরিকল্পনা কমিশনের সচিবসহ অনেকেই জড়িত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে দুদকে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে দুদক এর তদন্ত করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকেও একটি কমিটি করা হয়েছিল, তারাও প্রতিবেদন দিয়েছে। সে প্রতিবেদনের আলোকে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে পিরোজপুরে সব উন্নয়নকাজ বন্ধ আছে। মুখে মুখেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বলে দেয়া হয় যে, দুদকের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে। এটি একটি জেলার জন্য খুব ভয়াবহ অবস্থা। পিরোজপুরের তিনজন সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুদকের তদন্তের বাইরে যে প্রকল্পগুলো আছে, সেগুলো শুরু করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। ঈদের পর পিরোজপুর সরজমিনে পরিদর্শন করা হবে, এরপর কাজগুলো শুরু হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী ২০০৯ এর জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাজে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কিনা, সেটি অনুসন্ধানের জন্য ৭ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালক এর আহ্বায়ক। ৬০ দিনের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবে। আওয়ামী লীগ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালও এর মধ্যে আছে। প্রতিবেদন পাওয়ার আইন-বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া সচিবের সাক্ষর ছাড়াই জোর করে ফাইল নিয়েছেন এবং নিজে সাক্ষর করে অনুমোদন দিয়েছেন। এটি রুলস অব বিজনেসের পরিপন্থি। কারণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের সই ছাড়া মন্ত্রী একটি ফাইল অনুমোদন দিতে পারেন না। তবে এ বিষয়ে তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন