বুধবার । ১৩ই মে, ২০২৬ । ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩
পরিষদের বরাদ্দের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ

রূপসায় ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকির ভিডিও ভাইরাল, সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নান্দুকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন জনৈক মিকাইল বিশ্বাস।

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। গোপনে ধারণা করা ৩ মিনিট ৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে শোনা যায় ঘাটভোগের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে মিকাইল বিশ্বাস। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

ভিডিও থেকে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের কাজ ও টাকার ভাগ চাওয়া মিকাইল বিশ্বাস ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব। আগামী নির্বাচনে তিনি এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়তে আগ্রহী। গত ৫ মে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কক্ষে তাদের মধ্যে এই বাক্যালাপ হয়। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এস এম এ মালেক, যুগ্ম আহ্বায়ক মহিতোষ ভট্টাচার্য্য সহ কয়েকজন বিএনপি নেতা উপস্থিত ছিলেন।

গোপনে ধারণা করা ওই ভিডিওতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিকাইল বিশ্বাসকে নানা অভিযোগ করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে মিকাইল বিশ্বাস বলেন, ‘তোরে মাইরে রোডের সঙ্গে একেবারে শেষ করে দেব। তোর হাড্ডি খুইটে নেওয়ার লোক থাকবে না। আরো বলেন ‘তোরে আমি ট্রাকের তলে গলা দিয়ে দেব, মামলা করারও লোক পাবি না। তোর পক্ষে আমার নামে মামলা করবে সেই লোকও খুঁজে পাবি না।’ তুই চিনিস আমারে? ইউনিয়ন পরিষদে যে কাজ আসবে, ওই কাজ সমান ভাগে ভাগ করবি। তোরা মেম্বার-চেয়ারম্যানরা অর্ধেক নিবি, আমাগে দলরে অর্ধেক দিবি। মনে থাকবে?’ এ সময় অন্য বিএনপি নেতারা মিকাইলকে শান্ত করেন। পরে আবার বলেন ‘এখন পরিষদে যে ২০ লাখ টাকা আছে তার অর্ধেক ১০ লাখ টাকা আমাদেরকে দিবি এবং বাকি ১০ লাখ টাকা তোরা চেয়ারম্যান মেম্বাররা নিবি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিকাইল বিশ্বাস বলেন, ‘আমি যেন নির্বাচন করতে না পারি, সেজন্য চেয়ারম্যান এগুলো করছে। ওরে আমি চেয়ারম্যান বানাইছি। এরপর এতো প্রকল্প, এতো বরাদ্দ এসেছে, সব খাইয়ে ফেলে কোনো কিছুর হিসাব নেই। আমি তো দলের জন্য টাকা চেয়েছি। সাবেক চেয়ারম্যান ১৮ লাখ টাকা রেখে গিয়েছে প্রকল্প ছাড়া সব টাকা মেরে দিয়েছে। আমার এলাকায় মাত্র তিন লাখ টাকার প্রকল্প দিতে বলেছি, সে তা দেবে না। তাই আমি রেগে গিয়েছি, নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নাই।’

তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু বলেন, ‘মিকাইল অনেক দিন ধরেই আমার কাছে কাজের ভাগ চান। সরকারি কাজ, আমি ভাগ দেব কীভাবে? এগুলো বুঝাইতে গেলে গালাগাল, জানে মাইরে ফেলাবে বলতেছে। বিষয়টি আমি দলের নেতা, থানা পুলিশকে জানাইছি।’

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সজল বলেন, ‘পরিষদের কাজ ও টাকা ভাগাভাগি করা এবং মিকাইল বিশ্বাসের এ ধরনের আচরণ করা উচিত হয়নি। তার হুমকির যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’

খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, ‘বিএনপি’র নেতাকর্মীদের দলে থেকে কোনো অনিয়ম করার অধিকার নেই। আমি খুলনার বাহিরে থাকায় জানতে পারিনি। খুলনায় এসে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা করা হবে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন