শনিবার । ৯ই মে, ২০২৬ । ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩

চরম দূষণের শিকার প্রাণসায়ের খাল, সাতক্ষীরার শহর হারাচ্ছে সৌন্দর্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী প্রাণসায়ের খাল এখন চরম দূষণ ও অব্যবস্থাপনার শিকার। এক সময় শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই খালটি বর্তমানে পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। খালের পানিত পড়ে থাকা ময়লা ও বর্জ্য পচে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। খালের দূষিত পানি শহরবাসীর জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৮৫০ সালের দিকে সাতক্ষীরার জমিদার প্রাণনাথ রায় চৌধুরী নদীপথে ব্যাবসা-বাণিজ্যের সুবিধা ও শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে একটি খাল খনন করেন। মরিচ্চাপ নদের সঙ্গে বেতনা নদীর সরাসরি যোগাযোগ রক্ষার জন্য এ খালটি খনন করা হয়। এল্লারচর থেকে খেজুরডাঙ্গী পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খনন করা খালটি প্রাণনাথ রায় চৌধুরীর নাম অনুসারে প্রাণসায়ের খাল হিসেবে পরিচিতি পায়। সে সময় খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম ছিল এ খাল। এর মাধ্যমে সহজ হয়ে উঠেছিল জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে প্রাণসায়ের সেই ঐতিহ্য আজ হারাতে বসেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ বর্তমানে শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিন এই খালে ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি খালের আশেপাশে বসবাসকারী অনেক পৌরবাসীও তাদের দৈনন্দিন গৃহস্থালির বর্জ্য সরাসরি খালে নিক্ষেপ করছেন। ফলে খালের পানি ময়লা ও বর্জ্যে ভরে যাচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে।

শহরের কাটিয় এলাকার বাসিন্দা লাভলী পারভীন জানান, “প্রতিদিন ভোরে খাল পাড়ের রাস্তা দিয়ে হাঁটাহাঁটি করি। কিন্তু রাস্তার ধারে খালের পাড়ে প্রায় বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলতে দেখা যায়। অনেকে ময়লা ছুড়ে খালের পানিতে ফেলে দেন। নিষেধ করলে তারা অনেকে উল্টো আমাদের কথা শুনিয়ে দেয়।”

নাগরিক নেতা আলিনুর খান বাবুল বলেন, “প্রাণসায়ের খাল রক্ষায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি। কিন্তু খালের আশেপাশে বসবাসকারী কিছু অসচেতন মানুষ তাদের বাসা-বাড়ির ময়লা খালে ফেলায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।” তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রাণসায়ের খালের ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। প্রাণসায়ের খাল পাড়ে ময়লার ভাগাড় হতে দেওয়া হবে না। খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে খালে কোনো ময়লা আবর্জনা ও অবৈধ স্থাপনা যাতে না হতে পারে সেজন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি খালের সৌন্দর্য রক্ষায় খাল পাড়ে ময়লা আবর্জনা না ফেলার জন্য পৌরবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন