নাজমুল হোসেন শান্ত যখন উইকেটে এলেন তখন ১০.১ ওভারে ৩১ রানে ২ উইকেট নেই বাংলাদেশ। মুমিনুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরলেন অধিনায়ক। দিনের প্রথম সেশন পার করে নামলেন দ্বিতীয় সেশনে। নিজে ছুঁয়ে ফেললেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। দলকে পার করালেন দুইশ রানের গণ্ডি। যদিও সেঞ্চুরির পর তার ইনিংস আর লম্বা হয়নি।
আজ শুক্রবার (৮ মে) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চা বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ৫৩ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানি বোলারদের রীতিমতো শাসন করতে থাকেন শান্ত। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন মিলে গড়েন ১৭০ রানের জুটি। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে চার মেরে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার নবম সেঞ্চুরি।
অবশ্য সেঞ্চুরির পর আর উইকেটে থাকতে পারেননি তিনি। পরের বলেই এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ককে। ফেরার আগে ১২ চার আর ২ ছক্কায় ১৩০ বলে ১০১ রান করেছেন শান্ত।
শান্তর ফাঁকে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মুমিনুলও। পিওর টেস্ট ব্যাটিংয়ে এগুচ্ছেন এই ব্যাটার। তাকে সঙ্গ দিতে উইকেটে এসেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
শান্ত-মুমিনুলের ব্যাটে ১০০ পার করে লাঞ্চে বাংলাদেশ
দুই ওপেনারই হতাশ করল বাংলাদেশকে। দ্রুতই ফিরে গেলেন মাহমুদুল হাসান জয় আর সাদমান ইসলাম। এতে কিছুটা চাপেই পড়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। সেখান থেকে দলের হাল ধরলেন মুমিনুল হক আর নাজমুল হোসেন শান্ত। অভিজ্ঞতার সবটুকু দিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতির বাকি সময় কাটিয়ে দিলেন তারা।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে অর্ধশত রাত তুলে নিয়েছেন শান্ত-মুমিনুল। অপরাজিত ৭০ রানের জুটি তাদের। এখন এই জুটিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এই দুজন। দলীয় রান পেরিয়েছে শতকের গণ্ডি।
শান্ত-মুমিনুলের জুটিতে এগুচ্ছে বাংলাদেশ
ভালো শুরুর পর কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পেসারদের সুইং সামলাতে বেগ পোহাতে হচ্ছিল ব্যাটারদের। শাহিন শাহ আফ্রিদি-হাসান আলীদের সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে দ্রুতই দুটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আর মুমিনুল হক মিলে সেই চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
১১ ওভারে মাত্র ৩১ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন শান্ত আর মুমিনুল। তৃতীয় উইকেট জুটিতে অর্ধশত রান তুলে নিয়েছেন এই দুজন। তাদের অপরাজিত ৫৬ রানের জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দুজনই সমান ২৮ রানে অপরাজিত আছেন।
দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ
বেশ দেখেশুনেই শুরু করেছিলেন সাদমান ইসলাম। পাকিস্তানি পেসারদের সামলাচ্ছিলেন ভালোভাবেই। কিন্তু নতুন বোলার আসতেই হতাশ করলেন তিনিও। হাসান আলীর প্রথম বলেই ফিরলেন স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। দ্রুতই দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গেছে বাংলাদেশ।
উইকেট শিকারের আশায় বোলিংয়ে পরিবর্তন আনলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ। সেই ফাঁদেই পা দিল বাংলাদেশ। হাসান আলীর প্রথম বলেই পরাস্ত হলেন সাদমান। হাসানের সিম মুভমেন্টের কাছে নতি স্বীকার করে তৃতীয় স্লিপে সালমান আগাকে ক্যাচ দেন এই টাইগার ব্যাটার। ফেরেন ৩০ বলে ১৩ রান করে।
জীবন পেয়েও হতাশ করে ফিরলেন জয়
প্রথম ওভারে দারুণ শুরুর পর কিছুটা ধুঁকতে দেখা গেল বাংলাদেশকে। নতুন বলের সুইংয়ে পরাস্ত হচ্ছিলেন ব্যাটাররা। পঞ্চম ওভারে মাহমুদুল হাসান জয় ক্যাচও তুলে দিয়েছিলেন স্লিপে। সেবার বেঁচে গেলেও সপ্তম ওভারে ভাগ্য আর সহায় হয়নি জয়ের। ফিরেছেন শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে।
সপ্তম ওভারের প্রথম বলে শাহিন আফ্রিদির সুইং করে বেড়িয়ে যাওয়া বল জয়ের ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে। বল তালুবন্দি করতে কোনো ভুল করেননি তিনি। জয় ফেরেন ১৯ বলে ৮ রান করে।
যে একাদশ নিয়ে মাঠে বাংলাদেশ
তিন পেসার আর দুই স্পিনার নিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। পেস বিভাগে আলোচিত নাহিদ রানার সঙ্গে আছেন চোট থেকে ফেরা তাসকিন আহমেদ আর ইবাদত হোসেন। দুই স্পিনার হিসেবে একাদশে জায়গা পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাইজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের একাদশ
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল ইসলাম, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন, নাহিদ রানা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। দুই দলেরই এটি বছরের প্রথম টেস্ট। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ।
খুলনা গেজেট/এনএম

