শুক্রবার । ৮ই মে, ২০২৬ । ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ শুল্ক বাতিল করলেন আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আদালত। ১৯৭০-এর দশকের একটি বাণিজ্য আইনের অধীনে ঢালাওভাবে এ ধরনের শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে জানিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করা মামলার পক্ষে এ রায় দিয়েছেন ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড। রায়টি ২-১ ভোটে পাস হয়। এ সময় একজন বিচারক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে রায় দেওয়াকে ‘অপরিপক্ব’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শুল্ক কার্যকর হয়েছিল। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, এই শুল্ক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা।

এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প আরোপিত ২০২৫ সালের শুল্কগুলোও বাতিল করে দিয়েছিল। ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট-এর অধীনে ওই শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প।

ফেব্রুয়ারির আদেশে ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্ট-এর ১২২ নম্বর ধারা ব্যবহার করেছিলেন। ডলারের দরপতন ঠেকাতে ১৫০ দিন পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নিয়ম রয়েছে এ ধারায়।

বৃহস্পতিবার আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার ফেব্রুয়ারির আদেশে যে ধরনের বাণিজ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছিলেন, তার জন্য এ আইনটি যথাযথ পদক্ষেপ ছিল না।

খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেসিক ফান!’-এর সিইও জে ফোরম্যান বলেন, সিদ্ধান্তটি যারা নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পণ্য সরবরাহ করতে বৈশ্বিক উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে সেসব আমেরিকান কোম্পানির জন্য একটি বড় জয়। তিনি এই শুল্ককে অবৈধ দাবি করে বলেন, আমাদের মতো ছোট থেকে বড় হতে যাওয়া ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য এই সিদ্ধান্ত কঠিন বিষয়।

এক বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের এই শুল্ক আরোপকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন আদলত। এতে আমরা সন্তুষ্ট। বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর জন্য এই রায় প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনবে বলে আশাবাদী তিনি।

শুল্ক আরোপের সময় ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছিল, বার্ষিক ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি এবং জিডিপির ৪ শতাংশ চলতি হিসাবের ঘাটতির কারণে একটি গুরুতর ব্যালেন্স অব পেমেন্টস সংকট বিদ্যমান। তবে কিছু অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য আইনজীবীরা যুক্তি দিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্যালেন্স অব পেমেন্টস সংকটের দ্বারপ্রান্তে নেই, ফলে নতুন এই শুল্ক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন