এটা সেই অসম্ভব স্বপ্ন এই গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ জয়। কেউ কেউ তো একে সরাসরি ‘অলৌকিক ঘটনা’ বলেই মনে করছেন। আসন্ন টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সেই ধারণাকেই নতুন করে আলোচনায় এনেছে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ফক্স স্পোর্টস। তাদের নতুন প্রচারণা ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে এমন এক কাল্পনিক দৃশ্য, যেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা জেতে যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই কল্পনার কেন্দ্রে আছেন আমেরিকান ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘মিরাকল’-এর নায়ক মাইক এরুজিওনে।
১৯৮০ সালের শীতকালীন অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের হকি দলের অধিনায়ক হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এরুজিওনে। সেই ‘মিরাকল অন আইস’ কীর্তিই তাকে আমেরিকান ক্রীড়ায় এক প্রতীকী চরিত্রে পরিণত করেছে। ফক্স স্পোর্টস সেই ইতিহাসকেই টেনে এনেছে ফুটবলের ভবিষ্যৎ কল্পনায়।
প্রচারমূলক ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল। ম্যাচ তখন ৯৭ মিনিটে গড়িয়েছে। পুরো দেশ থমকে আছে টেলিভিশনের সামনে। এমন উত্তেজনার মুহূর্তে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের কর্নার থেকে আসে সেই শেষ আক্রমণ, যা থেকে জন্ম নেয় ম্যাচ নির্ধারণী গোল।
গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় দৃশ্যপট। স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ার সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে উল্লাস। ড্রয়িংরুম, বার কিংবা ফ্যান জোন সবখানেই বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে ওঠে মানুষ। বিজ্ঞাপনটি যেন বোঝাতে চায়, এমন কোনো মুহূর্ত বাস্তবে এলে তা শুধু মাঠের জয় থাকে না, হয়ে ওঠে পুরো জাতির অনুভূতি।
https://www.foxsports.com/stories/soccer/2026-world-cup-hype-video-mike-eruzione-ultimate-miracle
ভিডিওর এক পর্যায়ে বর্তমান সময়ের দুই ভক্তের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে আসে সংশয় আর আশার দ্বন্দ্ব। এক বন্ধু যখন অবিশ্বাস প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে, তখন অন্যজন সম্ভাবনার কথা বলে। ঠিক সেই মুহূর্তেই হাজির হন এরুজিওনে, যিনি প্রশ্ন রেখে যান অসম্ভব বলে কি সত্যিই কিছু আছে?
এই প্রচারণায় আরও দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়া তারকাকে। এনএফএল কিংবদন্তি টম ব্র্যাডি এবং সাবেক ফুটবল তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও রয়েছেন এই কল্পিত জয়ের অংশ হিসেবে। পুরো ভিডিওটি সাজানো হয়েছে এলভিস প্রিসলির বিখ্যাত গান ‘ দ্য ইম্পসিবল ড্রিম’ এর সুরে।
ফক্স স্পোর্টস জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে এটি তাদের বৃহৎ প্রচারণার অংশ। প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং প্রধান রবার্ট গটলিব বলেন, এই আসরটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় আয়োজন হতে যাচ্ছে। দল ও ম্যাচের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি দেশের ইতিহাসের ২৫০ বছর পূর্তির আবহও যুক্ত হচ্ছে এই আয়োজনের সঙ্গে।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকান স্পিরিটকে ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য। আর যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে সেটি হবে ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গল্পগুলোর একটি।
বাস্তবতার দিক থেকে দেখলে, বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র এখনো পর্যন্ত শিরোপা জেতেনি। তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন। আধুনিক যুগে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন ২০০২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো। সাম্প্রতিক আসরগুলোতে তারা নকআউট পর্বে গেলেও শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে পারেনি।
ফিফা র্যাঙ্কিং ও শক্তিমত্তার বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এখনো শীর্ষ ফেভারিটদের সারিতে নেই। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ তাদের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রত্যাশা ও আলোচনার মাত্রা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। সেই প্রেক্ষাপটেই ফক্স স্পোর্টস-এর এই প্রচারণা ফুটবলপ্রেমীদের সামনে এক ধরনের স্বপ্নের দৃশ্য তুলে ধরেছে।
শেষ পর্যন্ত ভিডিওটি যেন একটাই বার্তা দেয় ইতিহাস যেমন একসময় যুক্তরাষ্ট্রকে বরফের মাঠে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়েছিল, তেমনি ফুটবলেও যদি সেই ‘মিরাকল’ ঘটে, তবে সেটি হবে আরেকটি নতুন অধ্যায়।
খুলনা গেজেট/এএজে

