খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে মব তৈরি করে ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দেওয়া এবং বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) খুলনা জেলা সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলুকে হেনস্তার ঘটনায় ৫ বিএনপি নেতাকে শোকজ করেছে বিএনপি। গতকাল রোববার মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের শোকজের চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান, সাবেক সভাপতি মীর কায়সেদ আলী, থানা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা সোহাগ হোসেন ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শেখ ইকবাল হোসেন।
৫ জনকে দেওয়া পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘খুলনা মহানগর বিএনপি থেকে বারবার সতর্ক করা সত্বেও আপনার বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা পরিপন্থি কর্মকান্ডে জড়িত থাকার প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে (১৩ এপ্রিল বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের উদ্ভুত ঘটনা) আপনার বক্তব্য ২২ এপ্রিল রাত ৮টার মনিটরিং সেলের সামনে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানানো নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
গত ১৩ এপ্রিল খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলী আজগর লবী। এ সময় তার সঙ্গে আসা বিএনপি নেতারা ডা. বাবুলকে ফ্যাসিস্টের দোসরসহ বিভিন্ন গালাগাল করেন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করতে তার দিকে তেড়ে যান। ওই সময় তাকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তখন সংসদ সদস্য ট্রাস্টি বোর্ডের কমিটি ভেঙে দিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ১৮ এপ্রিল মানববন্ধন করে খুলনার চিকিৎসকরা। মানববন্ধনে চিকিৎসক নেতারা তিন দফা দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্যের সামনে মব সৃষ্টিকারী ও ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতিকে অপদস্থকারী বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ, ডা. বাবলুকে অবিলম্বে বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ট্র্যাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে পুর্নবহাল এবং হাসপাতালের ট্র্যাস্টি বোর্ডের কার্যক্রমে ভবিষ্যতে অযাচিত হস্তক্ষেপ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
আগামী ২১ এপ্রিলের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে খুলনার সকল চিকিৎসক একযোগে জরুরী চিকিৎসা ব্যতীত কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন চিকিৎসক নেতারা। এর একদিন পরেই বিএনপির পাঁচ নেতাকে শোকজের ঘটনা ঘটলো।
খুলনা গেজেট/এনএম

