খুলনা গেজেটের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক মিনু মমতাজ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় খুলনা গেজেটের বার্তা বিভাগে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক গাজী আলাউদ্দিন আহমদ, খুলনা গেজেটের নির্বাহী সম্পাদক কাজী মোতাহার রহমান, বার্তা সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, প্রধান প্রতিবেদক মোহাম্মদ মিলন, সহ-সম্পাদক এস এম মাহবুবুর রহমান, আনিস উদ্দিন, বশির হোসেন, জাহিদুল সাগর, আয়শা আক্তার জ্যোতি, এম হাসানুজ্জামান মনি, শাহরিয়ার হোসেন মানিকসহ অন্যান্যরা।
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মিনু মমতাজ ১৯৬২ সালের ৮ নভেম্বর খুলনার সাউথ সেন্ট্রাল রোড মধ্যম পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের আগে তিনি খুলনার শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে সাহিত্য ও পাঠচক্র খুলনা জেলা শাখা এবং বনলতা সাহিত্য পরিষদ জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত আছেন। এছাড়া তিনি লেখিকা সংঘের আজীবন সদস্য। কবিতালাপের নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ইউনিভার্সিটি উইমেন এর সদস্য, খুলনা সাহিত্য পরিষদের আজীবন সদস্য, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য, সপ্তর্ষি (সামজকল্যাণ মূলক সংগঠন)’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো খুলনা শাখার এবং পরিবার পরিকল্পনা সমিতির আজীবন সদস্য। ঘাসফুল শিশু সাহিত্য পত্রিকার উপদেষ্টা, বাংলাদেশ বেতার খুলনার কবিতা ও কথিকা পাঠক, তন্ময় প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী ও পরিচালক, আইনস্টাইন বিজ্ঞান ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও বাস্তবায়ন সংস্থার সদস্য, ঢাকা বাংলা একাডেমীর সদস্য, অধ্যক্ষ রুহুল আমিন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, ঢাকার অবিনশ্বর সাহিত্য পত্রিকার খুলনা প্রতিনিধি, খুলনার জাতীয় কবি কাজী নজরুল গবেষণা পরিষদের উপদেষ্টা, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক, ফাতিমা হাই স্কুল এক্স স্টুডেন্ট এন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ (২০১৬-১৭), ফাতিমা হাইস্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি।
তার প্রকাশিত গ্রন্থ ও সংকলনের মধ্যে সাহিত্য সংকলন রয়েছে ১২টি। তার প্রথম দ্বৈত কাব্য গ্রন্থ- দ্বৈত সুবাস। দ্বিতীয় দ্বৈত কাব্য গ্রন্থ- আজও পরষ্পরে।
তার সম্পাদনা ও প্রকাশনায় রয়েছে শাহনওয়াজ বেগমের গল্প সংকলন ‘টেরাকোটা’, রিনা নাসরিনের কাব্যগ্রন্থ ‘ঘাস শিশিরের বসতবাড়ী’, মাজেদা হকের কাব্যগ্রন্থ ‘ত্রিধারা’, মন-বুজাহান হোসেনের কাব্যগ্রন্থ ‘সায়াহ্নে একা’, মাজেদা হকের নিবন্ধ সংকলন ‘দৃষ্টির সীমানায়’, নূরজাহান বেগম শেলীর কাব্যগ্রন্থ ‘অবশেষে ভোর’, হোসনে আরা মাহমুদ লিলির কাব্যগ্রন্থ ‘অস্ফুট পংক্তিমালা’।
বহু পুরস্কার প্রাপ্তি রয়েছে তার ঝুলিতে। ২০০৮, ২০১০ ও ২০১১ সালে জাতিসংঘ পার্কে খুলনার ২১-এর বই মেলার উদ্যোক্তা ও মূখ্য আয়োজক হিসেবে কেবলমাত্র নারীদের দ্বারা এহেন উদ্যোগের ব্যাপক পরিচিতি ও স্বীকৃতি লাভ করেন।
খুলনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উপস্থাপনা, বিতর্ক ও নূতন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার বিচারকসহ গীতিকার, সুরকার ও সংগীতশিল্পী হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি এবং এছাড়াও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকান্ডসহ খুলনা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।
খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মিলনমেলায় শিক্ষা মন্ত্রীর হাত থেকে কৃতি ছাত্রী (প্রকাশনায় অবদান) হিসেবে সম্মাননা স্মারক-২০১৫ ও রূপসা নন্দিনীতে ১৬ বছর অবদানের জন্য সম্মাননা স্মারক-২০১৬ লাভ করেন।

