বৃহস্পতিবার । ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২

অভয়নগরে ভোজ্য তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট, অধিকাংশ দোকানে নেই কোনো মূল্য তালিকা

গাজী আবুল হোসেন

যশোরের অভয়নগরে ভোজ্য তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নওয়াপাড়া বাজারের অধিকাংশ দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না ভোজ্য তেল। কবে পাওয়া যাবে তারও নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। নওয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী দত্ত স্টোর, কুষ্টিয়া স্টোর, শ্রী দুর্গা স্টোর, ভাই ভাই স্টোর, বিষ্ণু স্টোর, স্নেহা স্টোর সহ বড় বড় দোকান গুলিতে ভোজ্য তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

এলাকা ও বাজার ঘুরে দেখা যায়, এসব দোকানে মাত্র কয়েকদিন আগেও তেলের সংকট ছিল না। ৫ এপ্রিল রবিবার সকালে এসব দোকানগুলিতে গিয়েও সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। দুই একটি দোকানে স্টারশিপ নামে নন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও পাঁচ লিটারের বোতল হাকাচ্ছে ৯৮০ টাকা। যেখানে ব্র্যান্ডের তেল রূপচাঁদা, ফ্রেশ, তীর কোম্পানির ৫ লিটার বোতলে কিনতে লাগছিল ৯৫০ থেকে ৯৫৫ টাকা। গত ৩ এপ্রিল স্টারশিপ ৫ লিটার বোতল পাওয়া যাচ্ছিল ৯৫৫ টাকায়, অথচ দু-দিন পর সেই তেল মাত্র দু-একটি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে ৯৮০ টাকায়।

এসব দোকানের ব্যবসায়ীরা জানান, তেল কবে আসবে এর কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। বিষ্ণু স্টোরের মালিক বিষ্ণুপদ বলেন, “তেল যা ছিল বিক্রি হয়ে গেছে, পুনরায় তেল না আসা পর্যন্ত কবে তেল পাওয়া যাবে এর নিশ্চয়তা দিতে পারছি না।

অন্য এক দোকানি আসর আলী বলেন, বোতলজাত কোনো সয়াবিন তেল নাই। খোলা তেল আছে, ২০৫ টাকা লিটার। তবে আকিজ সিটি সেন্টারে গায়ের দামে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হয়েছে সয়াবিন তেল।

অপরদিকে গ্যাসের মূল্য ৩৮৭ টাকা বৃদ্ধিতে নওয়াপাড়া বাজারে এলপিজি ১২ লিটারের গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ দোকানগুলিতে বসুন্ধরা এবং ওমেরা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কবে নাগাদ পাওয়া যাবে এর নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা। নওয়াপাড়া বাজারের হাতে গোনা কয়েকটি দোকানে গ্যাস পাওয়া গেলেও বিভিন্ন দোকানে বিভিন্ন দাম হাঁকাচ্ছে। সরকারি মূল্যের তোয়াক্কা না করে এসব দোকানগুলিতে নিজস্ব কায়দায় গ্যাস বিক্রি চলছে। নওয়াপাড়া প্রফেসর সাড়ায় তুবা এন্টারপ্রাইজে ওমেরা গ্যাস ১৯৫০ টাকা, সেভেন স্টার ১৮৫০ টাকা,। নওয়াপাড়া বাজারের কয়েকটি খুচরা দোকানে ১৫৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে টি এম এস এস গ্যাস। প্রোম্যাক্স গ্যাস ১৯৫০ টাকা। ওমেরা গ্যাস দুই একটি দোকানে থাকলেও ১৯৫০ টাকার কমে তা বিক্রি হচ্ছে না। কোনো দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না বসুন্ধরা গ্যাস।

গোয়াখোলা গ্রামের নাসিমা বেগম বলেন, শহরের বাড়িতে গ্যাস ছাড়া রান্নার কোনো উপায় নাই। কোনো বিল্ডিংয়ের বসতবাড়িতে কাঠের চুলা ব্যবহার করার সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

অপরদিকে ধোপাদি গ্রামের শাহিনা আহমেদ বলেন, ভোজ্য তেল সয়াবিনের সংকটে আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ বেকায়দায় পড়েছি। বাজার করতে আসা বূইকারা গ্রামের আব্দুল্লাহ বলেন, টাকা দিলেও তেল মিলছে না কোনো দোকানে। স্টারশিপ নামে একটি নিম্নমানের ভোজ্য তেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে চড়া দামে। এলপিজি গ্যাস এবং ভোজ্য সয়াবিন তেল সংকটে বাজার মনিটরিংয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন অভয়নগরের সচেতন মহল।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন